পশ্চিমবঙ্গে ২ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, আজুপ প্রধান হুমায়ুন গ্রেপ্তার

পশ্চিমবঙ্গে ২ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ, আজুপ প্রধান হুমায়ুন গ্রেপ্তার
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

পশ্চিমবঙ্গের রেজিনগর এবং নন্দী গ্রামে মঙ্গলবার দুটি উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উপনির্বাচনের সকাল থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক মন্তব্য করছেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টি (আজুপ) প্রধান হুমায়ুন কবীর।

পুলিশকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, ‘পারলে গ্রেপ্তার করুন।’ এমনকি, ভোটে বাধা দিতে এলে রাস্তায় মুগুড় নিয়ে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। হুমায়ুনের এই হুঁশিয়ারির কিছুক্ষণ পরই তাকে আটক করে পুলিশ। রেজিনগর পার্টি অফিস থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় আজুপ বিধায়ককে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তোলে পুলিশ। তাকে নিয়ে যাওয়া হয় রেজিনগর থানায়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে।

মঙ্গলবার সকাল থেকে রেজিনগরে বাড়তি ভোটের উত্তাপ। সকাল থেকে হুমায়ুন কবীরের বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ দেখা যায়। এসময় পুলিশ দিয়ে নজরদারি চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরপর সকাল সকাল নিজের বুথে ভোট দিয়েই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে পুলিশকে হুঁশিয়ারি  দিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ সকালে পুলিশ যেধরনের আচরণ করছে, মানুষকে বলব এদের বিরুদ্ধে মুগুড় নিয়ে দাঁড়াতে। পুলিশ যদি আমাকে মারতে আসে তাহলে কি ছেড়ে দেব? পুলিশের তো আইনরক্ষা করার দরকার।’

ভোট দিয়েই রেজিনগর পার্টি অফিসে যান হুমায়ুন। সেখানেই পৌঁছে যায় পুলিশ। সেইসময় পুলিশের সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তির পর হুমায়ুনকে টেনে-হিঁচড়ে গাড়িতে তোলে পুলিশ। রেজিনগর থানায় তাকে নিয়ে যাওয়ার পর বন্ধ করে দেওয়া হয় থানার গেট। পুলিশ সূত্রে খবর, পুলিশকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আটক করা হয়েছে হুমায়ুনকে।

জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, হুমায়ুন কবীর প্রার্থী নন, তিনি নির্বাচনী কোনও এজেন্ট নন। তাই এভাবে ঘুরতে পারেন না। সেই কারণেই হুমায়ুন কবীরকে আটক করা হয়েছে। এরপর পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আইন ভেঙেছেন হুমায়ুন কবীর। তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এছাড়া নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীর ছেড়ে যাওয়া আসনে ভোট চলছে।

আরও পড়ুন

মঙ্গলবার দুই কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ৬০৫টি বুথে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল ৭টা থেকেই শুরু হয় ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া। চলবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মোট ৭১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রেজিনগরে ৩৪ কোম্পানি ও নন্দীগ্রামে রয়েছে ৩৭ কোম্পানি বাহিনী। এছাড়া নন্দীগ্রামে ৭০০ রাজ্য পুলিশ রয়েছে আর রেজিনগরে রয়েছে ৮১৯ রাজ্য পুলিশ।

নন্দীগ্রামে মোট ৩২৩টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। তার মধ্যে ৮৫টিকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। নন্দীগ্রামে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৩৮৯৫৫, নারী ভোটারের সংখ্যা ১২৭৪৬৩, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার সংখ্যা ১। রেজিনগরে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৩৫০১৪, নারী ভোটারের সংখ্যা ১২২৬৩৮, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৫।

নন্দীগ্রামে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৯। বিজেপির টিকিটে লড়ছেন হাসিরানি রথ। মমতা ব্যানার্জির দল তৃণমূলের কোনও প্রার্থী নেই। এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন করছে মমতা তৃণমূল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন মহম্মদ এতেশামুল হক। সিপিআইয়ের প্রার্থী শান্তিগোপাল গিরি।

রেজিনগরে মোট ৩১৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮২টি মূল এবং ৩৩টি সহায়ক কেন্দ্র রয়েছে। রেজিনগরে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৩৫০১৪, নারী ভোটারের সংখ্যা ১২২৬৩৮, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারের সংখ্যা ৫।

রেজিনগরে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৫। রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে লড়ছেন আজুপ বিধায়ক হুমায়ুনের ছেলে গোলাম নবি আজাদ। বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার। এই আসনে মমতার প্রার্থী রবিউল ইসলাম। কংগ্রেসের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মহম্মদ আবদুল্লাহিল কাফি। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ।

নন্দীগ্রামে কংগ্রেসের প্রার্থী প্রার্থীকে মিলন প্রধানকে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। আবার বেশ কয়েকটি বুথে বিজেপি প্রার্থী হাসির রানী রথকে ঢুকতেও বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad