মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান।
সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশ্বস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের নতুন করে চালানো হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় সোমবার রিয়াদে কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির জরুরি বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্রুত সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টার নিন্দা জানিয়েছে তিন দেশ। সৌদি আরব ও ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর ওপর হামলা মোকাবিলায় নিজেদের অভিন্ন অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।
সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান বলেন, হামলা মোকাবিলা ও সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে জোট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি নিশ্চিত করেন, হুমকি ও এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উচ্চপর্যায়ের এ বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলের ও সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওলু উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সহায়তার পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছে তিন মিত্র দেশ। পাশাপাশি সংলাপের মাধ্যমে আঞ্চলিক সমস্যাগুলোর শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথও খতিয়ে দেখেছে তারা।
স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের লক্ষ্যে গত আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান এ জোট গঠন করে।
জোটের স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নওমান মাহমুদ তিন বছরের জন্য মক্কা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এর আগে ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে জোটের কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। সেখানে সদস্য দেশগুলো সৌদি আরবে একটি স্থায়ী সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় সম্মত হয়। এর ধারাবাহিকতায় রিয়াদে এবার অনুষ্ঠিত হলো এ বৈঠক।
প্রতিরক্ষা শিল্প, যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনে সহযোগিতা বাড়াতেও সম্মত হয়েছে মিত্র দেশগুলো। একই সঙ্গে আঞ্চলিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে উৎসাহ দিতে কূটনীতি, উত্তেজনা প্রশমন ও সংযমের ওপর জোর দিয়েছে তারা।
সৌদি আরবে হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকার মধ্যেই এমন সিদ্ধান্ত এল। আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে সম্ভাব্য রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়েও আলোচনা চলছে।


