থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০

থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০
ভারী বৃষ্টির পর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে জলমগ্ন রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে মানুষ। ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

থাইল্যান্ডে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চলমান বন্যায় দেশজুড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬০ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার থাই সরকারের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। দেশের কয়েকটি অঞ্চলে নদীর পানির উচ্চতা এখনো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

গত মাসের শেষ দিকে টানা ভারী বৃষ্টিতে রাজধানী ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হলেও বর্তমানে সেখানে বন্যার পানি অনেকটাই নেমে গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

তবে মধ্যাঞ্চলীয় প্রাচিনবুরি প্রদেশের পরিস্থিতি এখনো বেশ সংকটময়। দেশটির দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, কেবল এই প্রদেশেই ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন নদীর পানি উপচে প্রাচিনবুরির সাতটি জেলার ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়ায় ১ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

দুর্যোগ বিভাগ জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের ৭৭টি প্রদেশের মধ্যে ২৭টিতে এখনো বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অন্যান্য প্রায় এক ডজন প্রদেশ ও রাজধানী ব্যাংককেও এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন

ব্যাংককে গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে মাত্র কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই সেখানে পুরো এক মাসের সমপরিমাণ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুরো নগরীকে দুর্যোগ এলাকা ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

কয়েক দিন ধরে ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকার পাশাপাশি তলিয়ে যাওয়া সড়কে যানবাহন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় এবং টানা দুই দিন স্কুল বন্ধ রাখা হয়। জলাভূমির ওপর গড়ে ওঠা এই শহরে অসংখ্য খাল থাকলেও এ বছরের পরিস্থিতি বাসিন্দাদের কাছে অনেক বেশি ভয়াবহ মনে হয়েছে।

এদিকে আগামী সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাংকক। এ উপলক্ষে বর্তমানে শহরজুড়ে জোর পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে।

বন্যা মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনসমালোচনার মুখে থাকা প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল সোমবার সরকারি সংস্থাগুলোকে বন্যা পরিস্থিতি ও পরিবহন ব্যবস্থা এমনভাবে পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে আন্তর্জাতিক এই বৈঠকগুলোতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad