যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য চলাকালে একের পর এক বিক্ষোভ হয়েছে। অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী তার বক্তব্যে বাধা দেন। কয়েকজনকে পুলিশ সরিয়ে নেয়। একপর্যায়ে এক বিক্ষোভকারীর বাধার পর কিছু সময়ের জন্য মাইক্রোফোন থেকে সরে দাঁড়ান ট্রাম্প।
বুধবার রাতে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিওর ফ্রিম্যান কলিসিয়ামে এ সমাবেশ হয়। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচারে অংশ নেন ট্রাম্প। টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য বড় জয় ঠেকাতে রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট চান তিনি।
এক বিক্ষোভকারীকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, ‘সে মায়ের কাছে ফিরে যাচ্ছে। তবে সে জানে না, তার মা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন।’
সমাবেশে প্যাক্সটনের প্রচারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। অবসরপ্রাপ্ত বেসবল তারকা রজার ক্লেমেন্সকে প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। মাদক ব্যবসায়ী, মানবপাচারকারী ও পুলিশ হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে নিজের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
সম্প্রতি ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে হামলা চালাতে পারে বলে দেওয়া বক্তব্যেরও ব্যাখ্যা দেন ট্রাম্প। জ্বালানির উচ্চমূল্যকে যুদ্ধের তুলনায় ‘ছোট মূল্য’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা সান দিয়েগোতে হামলা করুক, লস অ্যাঞ্জেলেসে হামলা করুক। আমরা তা হতে দেব না। আমরা আমাদের শহর রক্ষা করবো। আমরা আমাদের দেশ রক্ষা করবো।’
টেক্সাসে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রায় ১৪ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে অঙ্গরাজ্যটিতে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে তার কমে যাওয়া জনপ্রিয়তা, ইরানের যুদ্ধ ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকানরা চাপে পড়েছে।
এক মাসেরও কম সময়ে বুধবার তৃতীয়বার টেক্সাস সফর করেন ট্রাম্প। এ পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ৩০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করেছে রিপাবলিকান পার্টি।
সমাবেশে ছিলেন না রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। প্রায় ৩৩০ মাইল দূরে একটি হাসপাতালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল তার। তার অনুপস্থিতি নিয়ে ডেমোক্র্যাটরা সমালোচনা করেন।
সিনেট নির্বাচনেও প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচারে জোর দেন ট্রাম্প। ১৯৮৮ সালের পর টেক্সাস থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। এবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকোর অর্থ সংগ্রহ, ট্রাম্পের কম জনপ্রিয়তা ও প্যাক্সটনের ভাবমূর্তি নিয়ে বিতর্কের কারণে লড়াইটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্যাক্সটনকে ‘সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অ্যাটর্নি জেনারেল’ বলে প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘তিনি কঠোর ছিলেন। সব সময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তিনি অসাধারণ একজন মানুষ।’
রিপাবলিকান প্রাইমারিতে বর্তমান সিনেটর জন কর্নিনের বিপরীতে প্যাক্সটনকে সমর্থন করেছিলেন ট্রাম্প।
ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকোরও সমালোচনা করেন ট্রাম্প। মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বড় পরিসরের মাদক ব্যবসায়ী, মানবপাচারকারী এবং কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করা ব্যক্তিদের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে আমি।’
২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুডে ১৩ জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল মালিক হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে বলে জানান ট্রাম্প। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ফায়ারিং স্কোয়াডে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতিতে অনুমোদন দেন তিনি।
সমাবেশের শেষ দিকে মঞ্চে ওঠেন প্যাক্সটন। ট্রাম্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি এখানে এসেছেন বলে আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।’
পরে রজার ক্লেমেন্সকে প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম দেওয়ার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। রেড সক্স ও ইয়াঙ্কিজের সাবেক এই পিচার পারফরম্যান্স বাড়াতে নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগের কারণে মেজর লিগ বেসবলের হল অব ফেমে জায়গা পাননি।
সম্মাননা পাওয়ার ঘোষণায় বিস্ময় প্রকাশ করেন ক্লেমেন্স। ট্রাম্পের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘আমার খেলোয়াড়জীবনে যা কিছু করেছি, তার সবকিছুকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে এই সম্মান। আর এই প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এটি পাওয়া। একজন বিজয়ীর কথা বলছেন? তিনিই তো একজন বিজয়ী।’
সূত্র: এপি


