জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে সততা, আন্তরিকতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনআস্থা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ বিনির্মাণে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে বিভিন্ন ইউনিটে পদায়িত ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তাদের (এএসপি) যোগদানপূর্ব দিকনির্দেশনামূলক ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এসব কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর নির্বাচিত বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিপুল জন আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে দায়িত্ব পালন করছে। বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ পুলিশকেও নতুন পথরেখা নির্মাণ করতে হয়েছে। এ পথরেখায় জনপ্রত্যাশা, মানবাধিকার এবং নারী, শিশু ও বয়স্ক নাগরিকদের প্রতি সংবেদনশীলতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, নবপদায়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের নব উদ্যম ও অঙ্গীকার নিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তাকে বাহিনীর একজন অ্যাম্বাসেডর হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।
আইজিপি আরও বলেন, পুলিশিং একই সঙ্গে একটি সেবা ও চ্যালেঞ্জ। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নবীন কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ পুলিশ লিডার হিসেবে উল্লেখ করে আলী হোসেন ফকির বলেন, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। নিত্যনতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে আইন ও বিধিবিধানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে পেশাদারত্ব বজায় রেখে জনগণকে সেবা দিতে হবে। জনগণের সঙ্গে আস্থাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমেই কার্যকর পুলিশিং নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে নবপদায়িত কয়েকজন কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে তাদের প্রশিক্ষণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা পেশাদারত্ব বজায় রেখে জনগণকে সেবা প্রদানের মাধ্যমে জন-আস্থা অর্জনে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন জাতির প্রত্যাশা পূরণে নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত আইজি (অর্থ) মো. আকরাম হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (এইচআরএম) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) সরদার নূরুল আমিন, অতিরিক্ত আইজি (লজিস্টিকস অ্যান্ড অ্যাসেট অ্যাকুইজিশন) মো. মুশফেকুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (অডিট অ্যান্ড ইন্সপেকশন) ও নবগঠিত সাইবার পুলিশ ইউনিটের প্রধান মো. ইকবাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডিআইজি (প্রশাসন) মো. হুমায়ুন কবীর।
৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচে মোট ৭২ জন কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬৬ জন পুরুষ এবং ছয় জন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন।


