বাকৃবির হলে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ, দুধ-ডিমের দাবি শিক্ষার্থীদের

বাকৃবির হলে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ, দুধ-ডিমের দাবি শিক্ষার্থীদের
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

শিক্ষার্থীদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও অপুষ্টি প্রতিরোধে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিভিন্ন আবাসিক হলে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ কর্মসূচি শুরু করেছে হল কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বল্পমূল্যে শিক্ষার্থীদের ফল দেওয়ার দিকনির্দেশনার পর হল কর্তৃপক্ষ এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে। তবে প্রশাসনের এই উদ্যোগের প্রতি সাধুবাদ জানানোর পাশাপাশি সমালোচনাও করছেন বিভিন্ন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের শিক্ষার্থী রেজওয়ান হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে দ্রব্যমূল্য এতটাই আকাশচুম্বী, যা আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের বাইরে। ডাইনিংয়ে খাবারের মান অতটা ভালো না হওয়ায় দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে দুধ-ডিম শিক্ষার্থীদের ভরসার জায়গা। কিন্তু দাম অনেক বেশি হওয়ার কারণে মধ্যবিত্ত অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষে এগুলোও কিনে খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

প্রশাসনের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে শহীদ নাজমুল আহসান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সিফাত অয়ন বলেন, ‘তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সম্পদ থাকলেও শিক্ষার্থীরা সরাসরি সেটা থেকে উপকৃত হতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পোল্ট্রি, ডেইরি ও ফিশ ফার্ম থাকার পরেও শিক্ষার্থীরা সেখানে প্রাধান্য পায় না। প্রশাসনের উচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের উৎপাদিত ফল, দুধ, ডিম এবং মাছমাংস শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া।’

একই অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুল হক হল, বেগম খালেদা জিয়া হল, কৃষি কন্যা হল সহ অন্যান্য হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহীদ শামসুল হক হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রতিটি কলা মাত্র দুই টাকা করে মোট ৬০০টি কলা বিতরণ করা হয়। অপরদিকে শহীদ নাজমুল আহসান হলেও প্রায় ৫০০ কলা শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। একই ভাবে ফজলুল হক হল এবং মাওলানা ভাসানী হলেও হল প্রভোস্টের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বল্পমূল্যে কলা বিতরণ করা হয়। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে অন্যান্য হল গুলোতেও বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছে বাকৃবি প্রশাসন।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে শহীদ শামসুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফতেখার আহমেদ অনিক বলেন, ‘প্রশাসন হয়তো এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি এবং বিকাশ নিয়ে তাদের সচেতনতা দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের যেই পরিমাণ প্রাচুর্যতা আছে আমরা এর থেকে একটু বেশি আশা করতেই পারি। আমরা অবশ্যই চাইবো উদ্যানতত্ত্ব খামারের মতো ডেইরি এবং পোল্ট্রি ফার্মের পক্ষ থেকেও এ ধরনের কর্মসূচির আয়োজন করা হোক।’

ডিম ও দুধের বর্তমান বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, বর্তমান বাজারে ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা হালি এবং দুধ বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট কাউন্সিলের আহ্বায়ক কাজী কামরুল ইসলাম জানান, ‘পূর্ববর্তী উপাচার্য স্যারের সময়েই আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম যেনো আমাদের উৎপাদিত দুধ, ডিম এবং মাংসের কিছু অংশ হলেও আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারি। যদিও আমাদের উৎপাদনশীলতা কম, তবুও এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে অনেক শিক্ষার্থী এটা থেকে উপকৃত হবেন। খুব শীঘ্রই উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলে এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা জি. এম মুজিবর রহমান জানান, শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদার কথা চিন্তা করেই প্রশাসন এ উদ্যোগ নিয়েছে। ধাপে ধাপে উদ্যানতত্ত্ব খামার থেকে কলা সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

শিক্ষার্থীদের সমালোচনার উত্তরে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা দুধ-ডিমের চাহিদা জানালেও পর্যাপ্ত উৎপাদন না থাকার কারণে আমরা আপাতত সেটা দিতে পারছি না। কিন্তু আমি চেষ্টা করছি সামনে খামার বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনা সভায় আমি একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করব যেখানে আমাদের উৎপাদিত পণ্যের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। সীমিত পরিসরে হলেও আমরা এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad