সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান হয়েছে। ১১তম গ্রেডভুক্ত প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে নির্ধারণের পদ্ধতি ইনটিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে (আইবাস++) যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইল না।
মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।
সিনিয়র সহকারী সচিব ফাতেমাতুজ জোহরা স্বাক্ষরিত এই আদেশে সংশ্লিষ্টদের অবিলম্বে আইবাস++ সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি আদেশ (জিও) জারির তারিখের পূর্বের কোনো আর্থিক বকেয়া শিক্ষকরা প্রাপ্য হবেন না।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়। আদালতের রায়ের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি করেছিল। কিন্তু প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে এতদিন অনলাইন সিস্টেমে ১০ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে শিক্ষকরা কাঙ্ক্ষিত গ্রেডে বেতন পাওয়া থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
অর্থ বিভাগের নতুন এই আদেশের ফলে সেই বাধা দূর হলো। তবে জিও জারির আগের সময়ের বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকছে না।
নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী ১০ম গ্রেডে মূল বেতন ৩২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ফলে ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের সুযোগ পাওয়ায় প্রধান শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।
এর আগে ১১তম ও ১২তম গ্রেডে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ করা হতো। পুরোনো পে স্কেলে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু হতো।
নতুন পে স্কেলে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা এবং ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


