কারিকুলামে খেলাধুলা-সংস্কৃতি সংযোজন করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

কারিকুলামে খেলাধুলা-সংস্কৃতি সংযোজন করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি: মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ২০২৭ সালের কারিকুলামে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিক মূল্যবোধ প্রভৃতি বিষয় সংযোজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান শিক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি খেলাধুলার উপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। ২০২৭ সালের কারিকুলামে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নৈতিক মূল্যবোধ প্রভৃতি বিষয় সংযোজন করা হচ্ছে।’

মঙ্গলবার কুমিল্লায় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথি হিসেবে ‘গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৬’ এর চূড়ান্ত পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আনন্দময় শিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছি। আগামী দিনে এমন একটি প্রজন্ম গড়তে চাই, যে প্রজন্ম আগামীর বাংলাদেশ তৈরি করবে। সেই প্রজন্ম বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে নেতৃত্ব দেবে।’

তিনি বলেন, লেখাপড়ার সঙ্গে খেলাধুলা অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত থাকতে হবে। আজ যারা বিজয়ী হবে এবং পরাজিত হবে-উভয়কেই সেখান থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পরাজয়কে বরণ করে নেওয়া এবং আগামী দিনে কীভাবে সেখান থেকে উত্তীর্ণ হওয়া যায় সেই শিক্ষা নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই আয়োজন আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত স্মরণীয় একটি দিন। এই আয়োজনটি শিক্ষা ও খেলাধুলার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।’

আরও পড়ুন

মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদের ভবিষ্যৎ সঠিকভাবে গড়ে তুলতে সচেষ্ট থাকতে হবে। এজন্য মনোযোগের সঙ্গে লেখাপড়া ও খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হতে হবে। তিনি এদেশকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে আমাদের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।’

অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারীশিক্ষার পথিকৃৎ নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীর জীবনী ভবিষ্যতে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ‌

বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির উদ্যোগে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার ব্যবস্থাপনায় এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতার মূল প্রতিপাদ্য ‘ক্রীড়া নৈপুণ্যে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’

গত ২৬ আগস্ট দেশব্যাপী এই গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়। দেশের সকল স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির) অনুর্ধ্ব ১৭ বছরের ছাত্র-ছাত্রীরা এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছে। গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ৪টি খেলা রয়েছে। এগুলো হলো-হ্যান্ডবল, কাবাডি, দাবা ও সাঁতার।

প্রতিযোগিতায় প্রায় ২৮ হাজার প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে প্রায় ১৪ লক্ষ শিক্ষার্থী, জেলা পর্যায়ে ৪৭ হাজার ৮৪০ জন, উপ-অঞ্চল পর্যায়ে ৫ হাজার ৮৮৮ জন, অঞ্চল পর্যায়ে ৮২৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। জাতীয় পর্যায়ে ৩৬৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।

অনুষ্ঠানে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad