রামেবির ভিসি ও কর্মকর্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ

রামেবির ভিসি ও কর্মকর্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ
কোলাজ: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য মো. জাওয়াদুল হক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইনকে জোরপূর্বক পদত্যাগ ও চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন করতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এদিন ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করে পদত্যাগের দাবি জানায়।

একপর্যায়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। একই সময়ে অর্থ বিভাগের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইনের কাছ থেকেও চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদনপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

উপাচার্যের কার্যালয়ে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে জাওয়াদুল হক বলেন, ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে তার মোবাইল ফোন নিয়ে নেয়। পরে একটি কাগজে সই করতে চাপ দেওয়া হয়। তাদের ভয়ে এবং আত্মরক্ষার্থে তিনি ওই কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন। কাগজটিতে কী লেখা ছিল, তা পড়ার সাহসও তিনি পাননি বলে দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, পরে ওই ব্যক্তিরা তাকে সঙ্গে করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের করে দেন। বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরকে জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাডে দেওয়া উপাচার্যের পদত্যাগপত্রে বলা হয়েছে, তিনি ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে বর্তমানে তার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তিনি পদত্যাগ করছেন বলে পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়। পদত্যাগপত্রটি গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া আবেদনে অর্থ বিভাগের সেকশন অফিসার মো. নাজমুল হোসাইন উল্লেখ করেন, তিনি ২০১৮ সাল থেকে রাজশাহী মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে তার পক্ষে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন।

তবে নাজমুল হোসাইন বলেন, ওই আবেদন তিনি স্বেচ্ছায় দেননি। তাকে জোরপূর্বক পদত্যাগে স্বাক্ষর করানো হয়েছে এবং এ সময় তাকে মারধর করা হয়। এতে তার শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাজমুল হোসাইন আরও অভিযোগ করেন, উপাচার্যের কার্যালয়ের কম্পিউটারের সিপিইউ ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পদত্যাগের দাবিতে আগে থেকেই একদল লোক বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। তারা উপাচার্য ও অর্থ বিভাগের সেকশন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ দাবি করেন। পরে তারা দুজনের দপ্তরে গিয়ে চাপ প্রয়োগ করেন। প্রায় ৭ থেকে ৮ মিনিটের মধ্যে পদত্যাগ ও অব্যাহতির আবেদন নেওয়ার পর তারা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে পুলিশ সেখানে আসে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ দাবি করেন, চাপ প্রয়োগকারীদের মধ্যে একটি রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক ছিলেন।

এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং উপাচার্য ও একজন কর্মকর্তার পদত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো পদত্যাগপত্র বা চাকরি থেকে অব্যাহতির আবেদন নেওয়া হয়েছে কি না, সেটি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad