রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিন ছাত্রদল নেতাসহ চারজনের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম।
তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ছাত্রত্ব বাতিলের মুখে থাকা চার শিক্ষার্থী হলেন ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম হাসিব, ছাত্রদল নেতা বিশাল চক্রবর্তী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম।
এদিকে অধিকতর তদন্তের মুখে পড়েছেন আরও চার শিক্ষার্থী। তারা হলেন ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, সহসাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম, কর্মী তানিম রহমান এবং রাকসুর সহ-সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। এ ছাড়া শাখা ছাত্রদলের নেতা বুলবুল রহমান, শরীফুল ইসলাম ও শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করা হয়েছে।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, তদন্ত কমিটি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। অধিকতর তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি।
যেভাবে সূত্রপাত
রাকসুর জিএস আম্মারকে নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন ছাত্রদল নেতা আহসান হাবীব। পোস্টে আম্মারকে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। এর প্রতিবাদ জানান রাকসুর সহ-সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে মেসেঞ্জারে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে দলবল নিয়ে পরিবহন মার্কেটে যান আহসান হাবীব। এ সময় শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম কটূক্তিমূলক পোস্ট দিলে ছাত্রদল কর্মীরা হলে গিয়ে তার কক্ষে ভাঙচুর চালান। সেখান থেকে ফেরার পথে ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান তারা। এতে ডেইলি স্টারের নূর আহসান মৃদুল, সমকালের মাঈনুল ইসলাম রাজু, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের আরিফ-উজ-জামান কোরবান এবং আগামীর সময়ের জাহিদুল ইসলাম আহত হন।
গত ৪ অক্টোবর রাতে এই ঘটনার পর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। ৮ অক্টোবর মধ্যরাতে প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি।


