এবার আটক অরবিন্দ কেজরিওয়াল

এবার আটক অরবিন্দ কেজরিওয়াল
অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করে পুলিশ ভ্যানে তোলার চেষ্টা। ছবি: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
Advertisement
Advertisement

ভারতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ ঘিরে এবার আটক হলেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির (আপ) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

শনিবার দুপুরে সিজেপির সমর্থনে ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচি ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যে দিল্লির লোধি এস্টেটের বাইরে থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ ভ্যান থেকে নিজের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করে আটকের তথ্যটি নিশ্চিত করেন কেজরিওয়াল। তার সঙ্গে দলীয় নেতাদেরও পুলিশ ভ্যানে দেখা যায়।

এর আগে ককরোচ জনতা পার্টির ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এদিন দুপুরে বিক্ষোভ ঘিরে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা ব্যানার্জিসহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাকে আটক করে পুলিশ।

অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও মমতা ব্যানার্জি ছাড়াও কেরালা রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং বর্তমানে রাজ্য বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা পিনারাই বিজয়নকে আটক করেছে পুলিশ। আরও আটক হয়েছেন বামপন্থী ছাত্রসংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) জাতীয় সভাপতি নেহা বোরা, স্বরাজ ইন্ডিয়া দলের নেতা যোগেন্দ্র যাদব ও ভারতের সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ।


ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন, দুপুর ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত কোনো বিক্ষোভকারী দিল্লিতে ককরোচ পার্টির নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে পারেননি।

আরও পড়ুন

এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, দুই শীর্ষ সংগঠক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা আটক থাকা পর্যন্ত দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন দলটির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডে।

শনিবার বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর আগেই সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় শুক্রবার রাতে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় অজিঙ্ক্যকে বিক্ষোভের চালকের আসনে রাখার কথা জানান অভিজিৎ।

বিক্ষোভে যোগ দিতে সকালে মুম্বাই থেকে দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণের পর এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটের ভেতর থেকে আটক করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় ককরোচ পার্টির ওই শীর্ষ তিন নেতাকে। তার আগে বিক্ষোভস্থলের পথে আটক হন জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি, মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধীসহ আরও অনেক পরিচিত মুখ।

ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে ভারতজুড়ে চলছে ব্যাপক ধরপাকড়। সংগঠনের নেতাকর্মী ও আন্দলোনকারীদের পাশপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণতন্ত্রপন্থী মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক, ইনফ্লুয়েন্সারসহ দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।

সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে ককরোচ জনতা পার্টি। একই অভিযোগ এনে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও।

এর জেরে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম ও রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে আশঙ্কা করছে দিল্লি কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ৩৭ দফার বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্র সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায়  সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেসের (সিএএফপি’স) প্রায় ২৩ হাজার সদস্য এবং দিল্লি পুলিশের আরও পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিক্ষোভের কারণে রেল চলাচলেও বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। শনিবার ভোর চারটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, এমন ট্রেনগুলোর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া দিল্লি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাজধানীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় এলাকার মোট ৪৫টি মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে। এর আগে রাজধানীর প্রায় ৫৭টি মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লি মেট্রোরেল কো-অপারেশন। তবে পরে তা ৪৫টিতে কমিয়ে আনা হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad