নেপালের উত্তর-মধ্যাঞ্চলে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে গেছে। এ ঘটনায় নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
রোববার এ বন্যার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) বরাতে সংবার সংস্থা এপি জানিয়েছে, বন্যার ঝুঁকিতে থাকা গ্রামগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদেরও নিরাপদ স্থানে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আকস্মিক বন্যার কারণ অনুসন্ধান করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। বুড়ি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীতে মিশেছে। কাঠমান্ডুর কাছের গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোর একটি এটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, উঁচু পাহাড়ের মাঝ দিয়ে প্রবল স্রোতে বয়ে যাওয়া নদীতে বাড়িঘর ও ছোট ছোট স্থাপনা ভেসে যাচ্ছে। পাহাড়ি এলাকার কতগুলো গ্রাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে বলা হয়েছে, সরকারি সতর্কবার্তার পর কাঠমান্ডুর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সংযোগকারী মহাসড়কের পাশে নদীতীরবর্তী শহর আরুঘাটের বাসিন্দারাও এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
এর আগে গত আগস্টে নেপাল-চীন সীমান্তের পার্বত্য এলাকায় ভয়াবহ বন্যার আঘাতে এখনো পুনরুদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে নেপাল। ওই বন্যায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং নিখোঁজ হন হাজারো মানুষ।
গত সোমবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের কার্যালয় জানিয়েছে, নিখোঁজদের উদ্ধারে নতুন করে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান বন্ধ করা হয়েছে। এখন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশেষ করে বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া সড়ক ও সেতু পুনর্নির্মাণের কাজ চলবে। অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারের হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে ৪৭৭ কোটি মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে। এতে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।


