নেপাল ট্র্যাজেডি/ বন্যা-ভূমিধসে মৃত বেড়ে ১৩৪২, এখনো নিখোঁজ ৪৮৮৬

বন্যা-ভূমিধসে মৃত বেড়ে ১৩৪২, এখনো নিখোঁজ ৪৮৮৬
বন্যায় মরদেহ গণদাফনের জন্য প্রস্তুত করছেন নেপাল পুলিশের সদস্যরা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৪২ জনে। শনিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত পাওয়া হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে নেপাল পুলিশ।

কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, বন্যাকবলিত বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল থেকে নদীতে ভেসে যাওয়া সবচেয়ে বেশি ৩৬০ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে চিতওয়ানে। এ ছাড়া পশ্চিম নাওয়ালপরাসিতে ২৩০ জন, পূর্ব নাওয়ালপরাসিতে ২২২, নুওয়াকোটে ১৯২, রাসুয়ায় ১৬০, গোরখায় ৭৩, ধাদিংয়ে ৬৭ এবং তানাহুনে ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে দুর্যোগের ১০ দিন পরও নেপালে প্রায় চার হাজার ৮৮৬ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তাদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এত বিপুলসংখ্যক মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ায় কর্তৃপক্ষ ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করছে। এখন পর্যন্ত মোট দুই হাজার ২৩২টি ডিএনএ নমুনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ২৬০টি নমুনা নেওয়া হয়েছে মরদেহের কাছ থেকে এবং নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজতে আসা পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৯৭২টি নমুনা।

পরিচয় শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক ও অন্য তথ্য সংগ্রহের পর পুলিশ এক হাজার ৩০টি মরদেহ সংরক্ষণ করেছে অথবা সাময়িকভাবে দাফন করেছে। এসব মরদেহের মধ্যে ২২২ জন নারী, ৩৫৫ জন পুরুষ এবং ৪৫৩টি মরদেহের ক্ষেত্রে এখনো পরিচয় বা লিঙ্গ নিশ্চিত করা যায়নি।

আরও পড়ুন

এক হাজার ২৭০টি অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহের বিস্তারিত তথ্য ও পরিচিতিমূলক বিবরণ নেপাল পুলিশের সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এসব তথ্য দেখে নিখোঁজ স্বজনদের পরিচয় যাচাই করতে পারবেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এখনো সাত হাজার ৯১২ পুলিশ মোতায়েন রয়েছেন। তারা উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ, মরদেহ ব্যবস্থাপনা এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিষ্কার ও চলাচলের উপযোগী করার কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।

বন্যায় ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হওয়া তিন হাজার ৬৫৫ জনকে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয় ও অবস্থানকেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

গত ২৬ আগস্ট সকালে তিব্বত সীমান্তে হিমালয় থেকে হিমবাহধসে প্রবল পানির স্রোত ও কাদার ঢল অনেকটা সুনামির মতো ভাসিয়ে নিয়ে যায় নেপাল ও চীন সীমান্তের পাহাড়ের নিম্নাঞ্চল। এতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রাস্তাঘাট, সেতু এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই দুর্যোগে অন্তত ২২ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ জমেছে। এর মধ্যে ভবনের ধ্বংসাবশেষ, পাথর ও পলিও রয়েছে।

সবশেষ শুক্রবার বন্যার নয় দিন পর নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত অবস্থায় দুই শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। শুক্রবার ত্রিশূলী-থ্রিএ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে চলমান উদ্ধার অভিযানে তাদের বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা। এখন পর্যন্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে ২৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও অন্তত ৬৩৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর