বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ১৫তম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। শনিবার সকাল ৯টা ৩ মিনিটে রাজধানীর এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) বা বায়ুর মান সূচক ছিল ৮৮।
একিউআইয়ের তালিকা অনুযায়ী, এদিন ঢাকার বায়ুর মান ছিল ‘মাঝারি’ বা ‘মডারেট’।
তালিকায় প্রথম তিনটি অবস্থানে ছিল মালয়েশিয়ার কুচিং, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা ও চীনের চেংদু। তাদের একিউআই স্কোর ছিল যথাক্রমে ২৬৭, ১৬১ ও ১৫২।
এই সূচক অনুযায়ী, ৫০ থেকে ১০০-এর মধ্যে স্কোরকে ‘মাঝারি’ মানের বায়ু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের বায়ু সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে যারা বায়ুদূষণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল, তাদের সামান্য স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তাদের দীর্ঘ সময় বাইরে শারীরিক পরিশ্রম করা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ হলে ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে ধরা হয়। এ ধরনের বায়ু জনসাধারণের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
একিউআই হলো প্রতিদিনের বায়ুর মান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার একটি সূচক। এর মাধ্যমে বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং দূষণের মাত্রার কারণে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি হতে পারে, সে সম্পর্কে মানুষকে জানানো হয়।
বাংলাদেশে পাঁচটি প্রধান দূষকের ওপর ভিত্তি করে একিউআই হিসাব করা হয়। এগুলো হলো—বস্তুকণা, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন।
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণের সমস্যায় ভুগছে। সাধারণত শীতকালে রাজধানীর বায়ুর মান আরও খারাপ হয়। বর্ষা মৌসুম শুরু হলে বায়ুর মান কিছুটা উন্নত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ুদূষণের কারণে প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এসব মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ।


