প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে অশালীন বক্তব্য ও কটূক্তির অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহ নামে এক কলেজছাত্রকে আটক এবং পরবর্তীতে একটি পুরোনো মামলায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার দেখানোর ঘটনায় হতাশা ও নিন্দা জানাচ্ছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, এইচআরএসএস কোনো ধরনের অশালীন ও আপত্তিকর বক্তব্যকে সমর্থণ করে না। এইচআরএসএস মনে করে, কোনো নাগরিকের বক্তব্য অশালীন, আপত্তিকর বা মানহানিকর হলে প্রচলিত আইনে তার প্রতিকার ও জবাবদিহির ব্যবস্থা রয়েছে।
শুধুমাত্র সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা কিংবা কটূক্তির অভিযোগকে সন্ত্রাসী কার্য হিসেবে গণ্য করে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করা হলে তা আইনের অপব্যবহার ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন করার আশঙ্কা তৈরি করে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় ও আইনানুগ আচরণের অধিকার, ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার সুরক্ষা এবং ৩৩ অনুচ্ছেদে গ্রেপ্তার ও আটক-সংক্রান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশ ও বাকস্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত। এসব অধিকার সীমিত করার ক্ষেত্রেও আইনগত ভিত্তি, প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতা নিশ্চিত করা আবশ্যক।
অন্যদিকে, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬-এ সন্ত্রাসী কার্যের নির্দিষ্ট উপাদান ও প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কার্য হিসেবে চিহ্নিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট আইনের অপরাধের উপাদান পূরণের সুনির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকা জরুরি।
এইচআরএসএস আরও মনে করে, বাকস্বাধীনতা যেমন নিরঙ্কুশ নয়, তেমনি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাও জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়।
মতপ্রকাশের নামে মানহানি, সহিংসতায় উসকানি বা অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে; তবে তা অবশ্যই অভিযোগের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ন্যায়সংগত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হতে হবে।
সিফাত আব্দুল্লাহকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আইনগত ভিত্তি ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশের দাবি জানাচ্ছে এইচআরএসএস।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে অভিযোগের প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইনে নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আহ্বানও জানায় সংস্থাটি।
গ্রেপ্তার ও হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার সাংবিধানিক অধিকার ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিও জানায় সংস্থাটি।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার চর্চাকে অপরাধ দমনের নামে অতিরিক্ত বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সংকুচিত না করার আহ্বান জানাচ্ছে।
এইচআরএসএস মনে করে, রাষ্ট্রের সমালোচনা বা আপত্তিকর মতপ্রকাশের জবাব হওয়া উচিত আইনের শাসন ও ন্যায়বিচারের মাধ্যমে—দমনমূলক বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়।


