বিভেদ ও সহিংসতা ভুলে কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মেধাবী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা কোনো সহিংস বাংলাদেশ দেখতে চাই না। আমরা কাজী নজরুল ইসলামের সাংস্কৃতিক বাংলাদেশ, গানের বাংলাদেশ, নাচের বাংলাদেশ, প্রাণের বাংলাদেশ এবং একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
শনিবার বেলা ১১টায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি পাহাড় কাঞ্চনপুরে অবস্থিত বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ আয়োজিত ‘কাব্য ও ছন্দে নজরুল’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং এসএসসি-২০২৬ পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার বাংলাদেশকে আমরা গণতন্ত্রের বাংলাদেশ হিসেবে দেখতে চাই। বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগে যে মেধাবী বাংলাদেশের কথা বলে গেছেন, আমরাও সেই মেধাবী বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, কাজী নজরুল ইসলাম শুধু একজন কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি চেতনা, একটি প্রতিবাদ ও একটি মানবিক দর্শন। অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ, বৈষম্য ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে তিনি তার মেধা ও কলমকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তার কবিতায় যেমন বিদ্রোহের আগুন রয়েছে, তেমনি রয়েছে প্রেমের কোমলতা। তার গানে যেমন স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তেমনি রয়েছে শান্তি ও সম্প্রীতির আহ্বান।
তিনি আরও বলেন, ‘নজরুল ধর্মের নামে বিভেদ চাননি; তিনি চেয়েছেন মানুষের ভালোবাসা ও ভ্রাতৃত্ব। এ কারণেই নজরুল আজও আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বীর উত্তম সুলতান মাহমুদের এয়ার অধিনায়ক এয়ার কমডোর মো. মাহমুদুর হাসান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন ও অধ্যক্ষ মনজিলা রিজওয়ান।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার শামসুল আলম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম, এএসপি (সার্কেল) এস এম মামুনুর রশিদ, সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মাস্টার, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিন মাস্টার, সহ-সভাপতি আকবর হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কবির হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক সবুর রেজাসহ বিমান বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গান ও কবিতা পরিবেশন করেন। তাদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানস্থল মুখর হয়ে ওঠে। পরে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী শাহীন কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।


