চুয়াডাঙ্গায় পাট চাষে সোনালী দিন ফিরছে

চুয়াডাঙ্গায় পাট চাষে সোনালী দিন ফিরছে
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় গত বছরের তুলনায় এ বছর পাটের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে জেলার মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে পাট। সকল প্রক্রিয়া শেষে জমি থেকে পাট ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। এর মধ্য দিয়ে এ জেলায় যেন সোনালী আঁশের হারিয়ে যাওয়া দিন আবার ফিরতে শুরু করেছে।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার চারটি উপজেলায় ৮ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৯ হাজার ১৩৫ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৪৩৫ হেক্টর বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা ও ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা পাট চাষে বাড়তি আগ্রহ দেখিয়েছেন। নিয়মিত বৃষ্টিপাতের ফলে এবার পাট জাগ দেওয়া নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা পোহাতে হয়নি, যদিও বৃষ্টির কারণে গাছের কিছু চারা মারা গিয়েছিল।

কৃষি বিভাগ আরও জানায়, চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় ৯ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমি থেকে মোট ২৩ হাজার ৪১ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতি হেক্টরে গড় উৎপাদন ধরা হয়েছে প্রায় ২.৬৫ মেট্রিক টন। এ অঞ্চলের কৃষকরা প্রধানত ‘জেআরও-৫২৪’ ও ‘বিজেআরআই তোষা পাট-৮’ জাতের পাট চাষ করছেন। বর্তমানে কৃষকরা পাট কাটা, জাগ দেওয়া ও শুকানোর কাজে পার করছেন ব্যস্ত সময়।

তবে বাজারদর নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা। বিঘা প্রতি পাট চাষে কৃষকদের ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে এবং বাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩,০০০ থেকে ৩,৩০০ টাকায়।

আরও পড়ুন

দর্শনা পরানপুর গ্রামের পাটচাষি আব্দুল বারী মিয়া বলেন, ‘পাট চাষে যে পরিমাণ খরচ ও পরিশ্রম হয়, সে অনুযায়ী বর্তমান দাম কিছুটা কম। খরচের তুলনায় পাটের দাম আর একটু বৃদ্ধি পেলে কৃষকরা লাভবান হতেন।’

একই সুর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হিজলগাড়ি গ্রামের পাটচাষী সোলেমান মোল্লার গলায়। জমি বর্গা নিয়ে পাট চাষ করা এই কৃষক জানান, বর্তমান বাজারদরে বর্গা নেওয়া জমিতে পাট চাষ করে লোকসান গুণতে হচ্ছে। সরকারিভাবে পাটের দাম আরেকটু বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হলে কৃষকরা বেঁচে থাকতেন।

চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, ‘চলতি বছর চুয়াডাঙ্গা জেলায় পাটের ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হয়েছে। পাটের পাশাপাশি এ অঞ্চলের কৃষকরা পাটকাঠিও বিক্রি করেন। ফলে পাট এবং পাটকাঠি—দুটোই কৃষকদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থকরী সম্পদ।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর