মানুষের চাহিদা পূরণে মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে। তবে উৎপাদন বাড়াতে গিয়ে গুণগত মানের সঙ্গে আপস করা যাবে না বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
রোববার রাজধানীর বনানীর হোটেল সারিনায় ফিশটেক বিডি লিমিটেড আয়োজিত ‘অ্যাকুয়াকালচার নলেজ ডে-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হবে।’
তিনি বলেন, দেশে খাদ্য উৎপাদনে বড় ঘাটতি নেই। তবে মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন বড় চ্যালেঞ্জ। কৃষিপণ্য রপ্তানি বাড়াতে মানসম্মত উৎপাদনের বিকল্প নেই।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। এই জনগোষ্ঠীকে শক্তিশালী করতে পারলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। কৃষিতে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্য হলো দেশের চাহিদা পূরণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান তৈরি করা।
গবেষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ভ্যাকসিননির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিকভাবে সমস্যার সমাধানে নজর দিতে হবে। মানুষের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পদ্ধতিতে খাদ্য উৎপাদন করা যাবে না।
মাটি ও পানি দূষণ কমাতে পেস্টিসাইডের ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। মাটি ও পানি দূষণ থেকে বেরিয়ে আসার কোনো বিকল্প নেই।’
দেশের মাটি ও পানিতে হেভি মেটালের উপস্থিতি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলেও জানান তিনি। পানিতে লেড ও আর্সেনিক পাওয়া যাচ্ছে। চালেও হেভি মেটালের উপস্থিতির বিষয়টি সামনে এসেছে। এসব উপাদানের উৎস চিহ্নিত করতে সরকার গবেষণা শুরু করেছে।
ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নদীর মিঠাপানি সেচে ব্যবহার করে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমানো বা বন্ধ করা যায় কি না, তা ভাবতে হবে।
কৃষি বিষয়ে পড়াশোনা করা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি। দেশি জাতের গবাদিপশুর সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিশ্বের অন্যতম ভালো জাত। এর উৎপাদনশীলতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের ডেপুটি হেড অব মিশন জন্না ভ্যান ডের লিন্ডেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফিশটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান খন্দকার ফরহাদ হোসেন। এতে আধুনিক মৎস্য প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব চাষ, বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিয়ে আলোচনা হয়।


