ভারতের দিল্লি বিমানবন্দরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ দুই শীর্ষ সংগঠক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলে যোগ দেওয়ার চেষ্টাকালে তাদের আটক করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে মুম্বাই থেকে দিল্লিতে আসেন অভিজিৎ, সৌরভ ও আশুতোষ। দিল্লিগামী ট্রেন বন্ধ থাকায় এবং দ্রুত বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টায় তারা বিমানে করে রাজধানীতে পৌঁছান। তবে বিমানবন্দরে নামার পরপরই তাদের আটক করা হয়।
পরে তাদের কড়া নিরাপত্তায় এবং সংবাদমাধ্যমের আড়ালে ভিআইপি প্রবেশপথ দিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।
ককরোচ জনতা পার্টির অফিশিয়াল এক্স পোস্টে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের ভেতর থেকে অভিজিৎ দীপকেসহ অন্য নেতাদের আটক করতে আসেন দিল্লি পুলিশের কয়েকজন নারী সদস্য। এসময় তাদের সঙ্গে তর্কে জড়ান সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাকে গ্রেপ্তার করুন, আমি ভয় পাই না।’
🚨 ABHIJEET DIPKE, SAURAV DAS AND ASHUTOSH RANKA DETAINED FROM INSIDE THEIR FLIGHT 🚨
Shame on you @narendramodi @AmitShah https://t.co/hXl6bzh53i
— Cockroach Janta Party – CJP (@Cockroachisback) October 10, 2026
এর আগে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ১২শর বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দেশটির জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি এবং ককরোচ জনতা পার্টির নেতা রত্না সিংও রয়েছেন।
অভিজিৎসহ সিজেপির শীর্ষ নেতাদের আটকের ঘটনা পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে এক বিবৃতিতে ককরোচ পার্টি বলেছে, ‘আজ দিল্লিতে বিমান অবতরণের পরপরই স্বৈরাচারী কায়দায় সংগঠনের নেতাদের আটকের ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দিল্লি পুলিশের পূর্বপরিকল্পিত এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো- আজকের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের নেতারা কর্মসূচিস্থলে পৌঁছানোর আগেই আন্দোলনের নেতৃত্বকে অকার্যকর করে দেওয়া।’
‘স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে চলাচলের স্বাধীনতার ওপর এই নির্লজ্জ হস্তক্ষেপের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি’, বলা হয় বিবৃতিতে।
এদিকে ককরোচদের বিক্ষোভকে সামনে রেখে রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।
সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে ককরোচ জনতা পার্টি। একই অভিযোগ এনে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও। তরুণ ছাত্র-জনতার পাশাপাশি গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকর্মী এবং আইনপ্রণেতারাও এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ পার্টির ডাকা বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ও রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে আশঙ্কা করছে দিল্লি কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ৩৭ দফার বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্র সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেসের (সিএএফপি’স) প্রায় ২৩ হাজার সদস্য এবং দিল্লি পুলিশের আরও পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন।
বিক্ষোভের কারণে রেল চলাচলেও বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। শনিবার ভোর চারটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, এমন ট্রেনগুলোর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
এ ছাড়া দিল্লি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাজধানীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় এলাকার মোট ৪৫টি মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে। এর আগে রাজধানীর প্রায় ৫৭টি মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লি মেট্রোরেল কো-অপারেশন। তবে পরে তা ৪৫টিতে কমিয়ে আনা হয়।


