তেলাপোকাদের ঠেকাতে দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ

তেলাপোকাদের ঠেকাতে দিল্লিতে ইন্টারনেট বন্ধ
বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) শনিবারের বিক্ষোভকে সামনে রেখে রাজধানী নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়।

এক বিজ্ঞপ্তিতে দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখার উপকমিশনার মনীষী চন্দ্র শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থল থেকে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে সব মুঠোফোনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকবে।

সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে ককরোচ জনতা পার্টি। একই অভিযোগ এনে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও। তরুণ ছাত্র-জনতার পাশাপাশি গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনকর্মী এবং আইনপ্রণেতারাও এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ পার্টির ডাকা বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ ও রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের বিক্ষোভ হতে পারে আশঙ্কা করছে দিল্লি কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভের প্রভাব সীমিত রাখতে দিল্লি পুলিশ ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার রাজধানীজুড়ে বহুস্তরবিশিষ্ট কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে।

ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে ২ অক্টোবরে চলে ধরপাকড়। ছবি: এপি/ইউএনবি

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ৩৭ দফার বিস্তৃত নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

আরও পড়ুন

এই পরিকল্পনার আওতায়  সেন্ট্রাল আর্মড পুলিশ ফোর্সেসের (সিএএফপি’স) প্রায় ২৩ হাজার সদস্য এবং দিল্লি পুলিশের আরও পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ২৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া সড়কগুলোতে বিক্ষোভকারীদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তাদের প্রবেশ ঠেকাতে ব্যাপকভাবে প্রতিবন্ধক বসানো হচ্ছে।

দিল্লিতে প্রবেশ এবং রাজধানীর ভেতরে চলাচলের ক্ষেত্রেও ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় জেলাগুলোতে যানবাহন ও মানুষের চলাচলের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

উবার ও ওলার মতো অ্যাপভিত্তিক গাড়িসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বিক্ষোভস্থলে যাত্রী পরিবহনে সতর্ক করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তরের উদ্দেশে যাতায়াতকারী কোনো ‘সন্দেহজনক’ ব্যক্তিকে গাড়িতে তোলার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

বিক্ষোভের কারণে রেল চলাচলেও বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। শনিবার ভোর চারটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে, এমন ট্রেনগুলোর যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া দিল্লি মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে রাজধানীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব, পশ্চিম ও কেন্দ্রীয় এলাকার মোট ৪৫টি মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ থাকবে। এর আগে রাজধানীর প্রায় ৫৭টি মেট্রোরেল স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দিল্লি মেট্রোরেল কো-অপারশন। তবে পরে তা ৪৫টিতে কমিয়ে আনা হয়।

আরও পড়ুন>>>

দিল্লিতে তেলাপোকাদের ঠেকাতে ২৬ হাজার পুলিশ

তেলপোকা বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিগামী ট্রেন বাতিল, মেট্রোতেও বিধিনিষেধ

শুধু সড়ক ও রেলপথেই নয়, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের ওপরও নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জোমাটোর মতো অ্যাপভিত্তিক খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় আকারের খাবারের অর্ডার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ খাবারের অর্ডার বিশ্লেষণ করে বিক্ষোভকারীরা কোথাও জড়ো হচ্ছেন কি না, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করছে পুলিশ।

এর আগেও ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ মোকাবিলায় দিল্লি পুলিশ একই ধরনের কৌশল নিয়েছিল।

গত জুনে দিল্লিতে দলটির ডাকা বিক্ষোভে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তরুণ ছাত্র জনতার তীব্র বিক্ষোভের মুখে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad