ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলা, পাল্টা হামলায় আরামকো ভবনে আগুন

ইয়েমেনে সৌদি জোটের হামলা, পাল্টা হামলায় আরামকো ভবনে আগুন
রিয়াদ বিমান বন্দরে হুথিদের হামলা। ছবি: ফাইল ছবি
Advertisement
Advertisement

ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানার কাছে একটি জ্বালানি ডিপোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার পর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

বিবিসির খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার রাতে ইয়েমেনে হামলার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সৌদি জোট।

জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, রাজধানী রিয়াদসহ বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। এর মধ্যে রিয়াদের কাছে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ও দুটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়।

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ধাহরানে আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে সীমিত পরিসরে আগুন ধরে যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে সানার কাছে ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির আল-সাবাহা স্থাপনায় হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। হুথি নিয়ন্ত্রিত ওই জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালানোর পর সৌদি আরবের রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

এর জবাবে সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর, সৌদি আরামকোর তেল শোধনাগার এবং পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামে প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তরে হামলার হুমকি দেয় হুথিরা। পরে আল-মালিকি জানান, দাম্মামসহ বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে ধাহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে।

আরও পড়ুন

এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠকে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার জন্য ইরান-সমর্থিত হুথিদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।

গত শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত হন। পরদিন একই বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় একজন নিহত হন। মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের উত্তরে তাদের বাহিনী তিনটি ড্রোন ধ্বংস করেছে।

সৌদি আরবের পশ্চিম ইয়েমেনে হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে প্রাণঘাতী বিমান হামলার জবাবে দেশটির বিমানবন্দর, তেল-গ্যাস স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে হুথিরা।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর পক্ষে লড়াইরত সেনাদের বিমান সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। লোহিত সাগর উপকূলসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী।

২০১৪ সালে হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সানা থেকে উৎখাত করার মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট সরকারকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সামরিক হস্তক্ষেপ করলে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে।

চার বছর ধরে চলা অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি গত জুলাইয়ে ভাঙতে শুরু করে। ওই সময় হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ‘সামুদ্রিক অবরোধ’ ঘোষণা করে এবং দেশটির বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও ট্যাংকারে হামলা শুরু করে। নিজেদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি অবরোধ এবং সানা বিমানবন্দরে বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করে গোষ্ঠীটি।

গত সেপ্টেম্বরে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলের একটি অংশ দখল করে নেয় হুথিরা।

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, সৌদি বিমান হামলার সহায়তায় বড় ধরনের পাল্টা অভিযান চালিয়ে তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকার নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad