বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে এক ভারতীয়কে প্রায় দুই মাস ধরে আটকে রাখার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। মামলার শুনানিতে বিচারপতি জানিয়েছেন, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কোনো ব্যক্তিকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দী রাখা যায় না।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রানিনগর থানার পুলিশ বাংলাদেশি নাগরিক সন্দেহে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে। ১০ আগস্ট তাকে উত্তর ২৪ পরগনার একটি আটককেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় দুই মাস বন্দী থাকার পর ঘটনাটি আদালতের নজরে আসে।
কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সামনে শুনানি চলাকালে রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। শুনানিকালে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া না মেনে কীভাবে একজন ব্যক্তিকে এভাবে আটকে রাখা হলো, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আদালত।
শুনানিতে সৌগত ভট্টাচার্য ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আধার ও প্যান কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল না করে কীভাবে তাকে ঢালাওভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হলো? এ সময় ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, ১৯৭০-এর দশকে বিপুলসংখ্যক মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন; এখন কি তাদের সবাইকে খুঁজে বের করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব?
বিচারপতি আরও মন্তব্য করেন, কেবল বাবার মৃত্যুর পর কেউ নিজেকে তার সন্তান হিসেবে আইনিভাবে প্রমাণ করতে না পারলে তাকে সরাসরি বাংলাদেশি নাগরিক ঘোষণা করা যায় কি না–সেটিও অত্যন্ত বিতর্কিত। যদিও সংশ্লিষ্ট ওই ব্যক্তি এখনো কোনো আইনি প্রতিকার পাননি।
ওই ব্যক্তিকে ভারত থেকে বহিষ্কার করার জন্য যে আদেশ জারি করা হয়েছে, তার যৌক্তিকতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি করে বলেন, কেবল পরিবারের কয়েকজন সদস্যের দেওয়া মৌখিক বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে কাউকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে দেওয়া যায় না। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বহিষ্কারের মতো চরম পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তার নাগরিকত্ব সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক সব তথ্য-প্রমাণ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করার আইনি দায়িত্ব প্রশাসনেরই।
তিনি যুক্তি দেন, জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে আধার ও প্যান কার্ডের মতো সরকারি নথি তৈরি করা হয়ে থাকলে সেগুলো বহিষ্কারের ভিত্তি হতে পারে। তবে বিষয়টি বিবেচনার পর রিট আবেদনটি যথাযথ বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৪ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়েছে।


