পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার দুটি আসনের উপনির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পেয়েছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দুই প্রার্থী।
নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসি রানী রথ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ১ লাখ ২২ হাজারেরও বেশি ভোটের রেকর্ড ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। হাসি রানী রথ গত মে মাসে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে গুলিতে নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা। চন্দ্রনাথ শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন।
হাসি রানী রথ মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ২২৭টি ভোট পেয়েছেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান পেয়েছেন ৪১ লাখ ৬৭৪ ভোট। ১৯৬৭ সালের পর নন্দীগ্রামে এটিই সবচেয়ে বড় জয়ের ব্যবধান। এর আগে ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর ৮১ লাখ ২৩০ ভোটে জয়ের রেকর্ডটিও ভেঙে দিয়েছেন হাসি রানী।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনেও বড় জয় পেয়েছে বিজেপি। সেখানে দলের প্রার্থী শঙ্করভ সরকার তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে ৭৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে জয়ের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নন্দীগ্রামে হাসি রানী রথ আমার পুরনো জয়ের রেকর্ডও ছাপিয়ে গেছেন এবং সংখ্যালঘু ভোটাররা তাদের ইতিবাচকভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু অধ্যুষিত রেজিনগরে বিপুল জয় প্রমাণ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ উন্নয়ন ও পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন।
বিশেষ করে রাজ্যের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র সুফল পাওয়া নারীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি রেজিনগরের সর্বস্তরের মানুষকে অভিনন্দন জানান।
চলতি বছরে বিধানসভা নির্বাচনে এই রেজিনগর আসন থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তিনি দুটি আসনে জয়ী হওয়ার জন্য একটি আসন ছেড়ে দিয়েছিলেন। সেখানে তার ছেলে গোলাম নবী আজাদকে প্রার্থী করা হয়। ফলাফল ঘোষণার আগে তিনি হার স্বীকার করে নেন।
অন্যদিকে, দুই উপনির্বাচনে কংগ্রেস এবং বাম দলগুলো ভোট লুটের অভিযোগ তুলেছে। আম এবং কংগ্রেসের অভিযোগ ভোটের নামে একটি প্রহসন করা হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বিপুল ভোট পেয়েছে বিজেপির দুই প্রার্থী।


