এ বছর শান্তিতে নোবেল জিতলেন নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার একজন বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সাবেক বিচারপতি। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শুক্রবার সুইডেনের স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তার নাম ঘোষণা করে।
শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রসারে অনুকরণীয় প্রচেষ্টার জন্য পিল্লাইকে এই সম্মাননায় ভূষিত করা হলো।
নোবেল পুরস্কারের ওয়েবসাইটে বলা হয়, দীর্ঘ কর্মজীবনে সর্বজনীন আইন ও নীতির প্রতি অঙ্গীকার এবং দৃঢ় নৈতিক অবস্থান বজায় রেখেছেন নাভি পিল্লাই।
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ও অন্য আন্দোলনকারীদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক আদালতের গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোতে বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
নাভি পিল্লাই রাষ্ট্র ও জাতীয় নেতাদেরও তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহির আওতায় আনতে ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের মনে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশা জাগিয়েছেন। কর্মজীবনের প্রতিটি দায়িত্বে তিনি আইনের শাসন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
BREAKING NEWS
The Norwegian Nobel Committee has decided to award the 2026 #NobelPeacePrize to Navanethem “Navi” Pillay for her efforts to promote peace and international law.#NobelPrize https://t.co/97vurspw6z
— The Nobel Prize (@NobelPrize) October 9, 2026
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন পিল্লাই। এ ছাড়া ২০১৯ সালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) একজন অ্যাডহক বা বিশেষভাবে নিযুক্ত বিচারক হন।
নোবেল কমিটির মতে, একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার পূর্বশর্ত হলো- এমন একটি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে যুদ্ধাপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে এবং নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার মানুষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।
আন্তর্জাতিক আইন ও আইনের শাসনভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নাভি পিল্লাইয়ের অগ্রণী ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিচারিক দায়িত্ব পালনে তার কঠোর নীতিনিষ্ঠা, সততা ও অসাধারণ সাহসিকতার প্রশংসা করেছে নোবেল কমিটি।
আরও পড়ুন: সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কারসন
ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক নাভি পিল্লাই ১৯৪১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম ছিল নাভানেথেম নাইডু।
তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে নিয়োগ পাওয়া প্রথম অশ্বেতাঙ্গ (শ্বেতাঙ্গ নন) নারী বিচারপতি। এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিজে) বিচারপতি এবং রুয়ান্ডাবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
এর আগে ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলস প্রচেষ্টা এবং স্বৈরশাসন থেকে গণতন্ত্রে ন্যায়সংগত ও শান্তিপূর্ণ উত্তরণের লক্ষ্যে সংগ্রামের জন্য তাকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রায় ৫০ বছর ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রাখার রীতি রয়েছে।
পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।


