জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলের সম্পত্তি নয়: ইশরাক

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো দলের সম্পত্তি নয়: ইশরাক
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। এটি দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের গণবিস্ফোরণ। আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের মূল্যায়নে দলীয় পরিচয় বিবেচনা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

শুক্রবার বিকাল সাড়ে চারটায় বগুড়া শহরের শহীদ টিটু মিলনায়তনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশকে দেড় দশকের শাসনামলে অধিকার হরণ, গুম, খুন ও নির্যাতনের মাধ্যমে দাসত্বের রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ওই শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করতে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও দীর্ঘমেয়াদী স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে পঙ্গুত্ববরণকারীদের চাহিদা ও দক্ষতা অনুযায়ী পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং তাদের সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিচ্ছেন। অনেক সময় তিনি সরাসরি আহতদের ফোন করে সমস্যার কথা শুনে সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন। জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির মাধ্যমে দল-মতনির্বিশেষে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকার তাদের আর্থিক সহযোগিতা, চিকিৎসা ও মানসিক সমর্থন দিতে কাজ করছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক আহত যোদ্ধা গেজেটভুক্ত ও প্রাপ্য চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় কাউকে প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে তাদের অনেকের শারীরিক সক্ষমতা ফেরানো যেত।

আরও পড়ুন

ইশরাক হোসেন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কোনো রাজনৈতিক দলের একক অর্জন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ছাত্রদের হাত ধরে শুরু হলেও পরবর্তী সময় শ্রমজীবীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিলেন। শিশু থেকে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল। জুলাই একটি গণঅভ্যুত্থান, কোনো দল বা ব্যক্তির সম্পত্তি নয়। এই বাস্তবতা সবাইকে মনে রাখতে হবে। ইতিমধ্যেই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর গঠন করা হয়েছে। সরকার পুনর্বাসন ও সুবিধা দেওয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করছে না। যারা তালিকাভুক্তির বাইরে আছেন, তাদের জন্য সীমিত সময়ের জন্য আবেদনপ্রক্রিয়া আবার চালু করা হবে।

বাদ পড়া ব্যক্তিদের জুলাই যোদ্ধা ও জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি, স্থানীয় বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জেলা প্রশাসক বা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন জমা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খনিজ, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। এছাড়া বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা উপস্থিত ছিলেন।

রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের জুলাই আন্দোলনের নেতা, আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আলোচনা শেষে পাঁচ শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad