চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্রায় দুই সপ্তাহ পর ক্যাম্পাসের বাইরে চট্টগ্রাম নগরে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
চুয়েট ক্যাম্পাস থেকে প্রায় ২৩ কিলোমিটার দূরে প্রেসক্লাব এলাকায় পাঁচটি বাসে করে শতাধিক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ ছাড়া নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকেও চুয়েটের শিক্ষার্থীরা এতে যোগ দেন।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘চুয়েট সচলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ’, ‘চুয়েট রিভোল্টস ফর সায়েম স্যার’, ‘পিএম কনসিডার আওয়ার অ্যাপিল’সহ বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এ সময় তারা ‘দফা এক, দাবি এক, অনলাইন ভিসির পদত্যাগ’এবং ‘দাবি মোদের একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, ‘আমরা দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ সংকট সমাধানের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছি না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি একটি অনন্য নজির যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা সবাই একজনকে উপাচার্য হিসেবে দেখতে চান। আশা করি, সরকার আমাদের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সায়েম স্যারকেই উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করবে।’
মানববন্ধনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব, মাহিরা তাজরিন ও যুলকারনাইন মিহাদ।
লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থীরা বলেন, চুয়েটের চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়টি দিনের পর দিন অচল থাকায় হাজারো শিক্ষার্থীর ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেননি, বরং একটি ‘ব্যাখ্যাহীন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের’ ন্যায্য পুনর্বিবেচনা চান।
চুয়েটে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের ৫৬ দিনের কার্যকালে নেওয়া উদ্যোগগুলো বিবেচনা করে তাকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের জন্য সরকারের দ্রুত ও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত এবং প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপও দাবি করেন তারা।
তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম স্যারকে উপাচার্য পদে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এখনো আমাদের দাবির বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। তাই বাধ্য হয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে এসে দাবি তুলে ধরতে হচ্ছে। আমরা চাই, সরকার দ্রুত বিষয়টি বিবেচনা করে চুয়েটের চলমান সংকটের সমাধান করবে এবং স্যারকে পুনর্বহাল করবে।’
গত ২১ সেপ্টেম্বর আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের প্রতিবাদে ওই দিন থেকেই আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি।
আন্দোলনের ১৪তম দিনেও চুয়েটের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে লাল কার্ড প্রদর্শন, মশাল মিছিল ও মুখোশ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তবে এখনো দাবির বিষয়ে কোনো সমাধান না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।


