কিশোরকে হত্যার পর এআই ভিডিও দিয়ে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ১

কিশোরকে হত্যার পর এআই ভিডিও দিয়ে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেপ্তার ১
রাকিবকে হত্যার পর কার্টুনে মুডিয়ে মরদেহ মাটিতে পুতে রাখা হয়। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

‎ঢাকায় রাকিব ইসলাম (১৭) নামের এক কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহ নীলফামারীর ডিমলায় নিজ বসতভিটায় পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে মামুন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।

পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে ভিডিও তৈরি করে তার পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে ডিমলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের বসতভিটা থেকে মাটি খুঁড়ে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।‎

‎নিহত রাকিব ইসলাম টাঙ্গাইলের গোপালপুর এলাকার খাদেমুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকার কাফরুল থানাধীন শেওড়াপাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য কোচিং করতে গিয়ে মামুনের সঙ্গে পরিচিত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

‎পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, পরিচয়ের পর কোনো একটি বিষয় নিয়ে রাকিব ও মামুনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে রাকিবকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে কার্টনে মুড়িয়ে ডিমলায় মামুনের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পরে বসতভিটার একটি স্থানে মরদেহটি মাটিচাপা দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যান মামুন।

আরও পড়ুন

‎এরপর রাকিবের পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাকিবকে জীবিত দেখিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করা হয়। সেই ভিডিও পরিবারের সদস্যদের দেখিয়ে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের কাছ থেকে কিছু টাকা নেওয়ার পরও রাকিবকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি।

‎এতে সন্দেহ হওয়ায় রাকিবের পরিবারের সদস্যরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাকিবের মরদেহ ডিমলায় পুঁতে রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হয় পুলিশ।

‎পরে ঢাকার পুলিশের একটি দল ডিমলায় এসে মামুনের দেখিয়ে দেওয়া স্থানে অভিযান চালায়। সেখানে মাটি খুঁড়ে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত মামুন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বসুনিয়াপাড়া এলাকার আফসার আলীর ছেলে।‎

‎ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, মামুনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

‎

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad