এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী উশু অ্যাথলেট জিন্নাত আক্তারকে নেত্রকোনায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতে পৌর শহরের খতিবনগুয়া এলাকায় এক অনুষ্ঠানে পরিবার ও এলাকাবাসী তাকে সংবর্ধনা দেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই অ্যাথলেট উশুর নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণিতে সেমিফাইনালে উঠে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন। তার হাত ধরে ৪০ বছর পর এশিয়ান গেমসে ব্যক্তিগত ইভেন্টে পদক পেল বাংলাদেশ।
জিন্নাত নেত্রকোনা পৌর শহরের খতিবনগুয়া এলাকার মরহুম আরজ আলী ও রওশনা আক্তারের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পদক জিতেছেন তিনি। সাতবার জাতীয় চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাপানের আইচি প্রিফেকচারাল মার্শাল আর্টস হলে নারীদের ৫২ কেজি ওজন শ্রেণির কোয়ার্টার ফাইনালে জিন্নাতের প্রতিপক্ষ ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার থারিসা দিয়া ফ্লোরেন্তিনা। নির্ধারিত ওজনসীমা পূরণ করতে না পারায় ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ফলে সেমিফাইনালে উঠে পদক নিশ্চিত করেন জিন্নাত।
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সর্বশেষ ব্যক্তিগত পদক এসেছিল ১৯৮৬ সালের সিউল আসরে। সেবার বক্সার মোশাররফ হোসেন ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন। এরপর প্রায় চার দশক পর ব্যক্তিগত ইভেন্টে আবারও পদক পেল বাংলাদেশ।
জিন্নাতের পদকে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের মোট পদকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫টিতে। এর মধ্যে একটি স্বর্ণ, পাঁচটি রৌপ্য ও নয়টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে। সেমিফাইনালে চীনের ইউ ডি-র কাছে হেরে স্বর্ণ ও রৌপ্যের লড়াই থেকে ছিটকে যান জিন্নাত। তবে ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করেন তিনি।
খতিবনগুয়ার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা জিন্নাতের এই অর্জনে গর্বিত তার পরিবার ও এলাকাবাসী। একই সঙ্গে এটি নেত্রকোনা ও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর এশিয়ান গেমস থেকে পদক নিয়ে দেশে ফেরেন জিন্নাত। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ও উশু ফেডারেশনের পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা জানানো হয়। পরে সোমবার রাতে নিজ এলাকায়ও সংবর্ধনা পান তিনি।


