ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মাস্টার্সের ৮ শিক্ষার্থীকে আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার ও বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন পেয়েছেন গবেষণা পুরস্কার। ৬ জন পেয়েছেন গবেষণা বৃত্তি।
বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড অধ্যাপক আলী রীয়াজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে পরিবার, বাবা-মা ও সমাজের অনেকের অবদান থাকে। সুনাগরিক ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠে তাদের এসব অবদানের প্রতিদান দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘সুখী, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও দেশ গঠনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি ফান্ডের ওপর নির্ভর করে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও অ্যালামনাইদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে বিশ্বমানে উন্নীত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন উপাচার্য। তিনি প্রতিটি বিভাগে অ্যালামনাইদের সম্পৃক্ত করে বড় আকারের ‘এনডাউমেন্ট ফান্ড’ গঠনের তাগিদ দেন। শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান।
আলী রীয়াজ বলেন, ‘স্বৈরাচারীদের পরাস্ত করা গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রথম ধাপ। আসল কাজ এখনো শেষ হয়নি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ১৬ বছরের নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে পরাস্ত করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণ একটি নির্বাচন আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত অর্থ হলো দেশের নাগরিক হিসেবে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।’
আলী রীয়াজ বলেন, ‘মাদাগাস্কার, সুদান, তিউনিসিয়া, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের ইতিহাস আমাদের সতর্ক করে দেয়। এসব দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলন সফল হলেও পরে কর্তৃত্ববাদী শাসন বা অস্থিরতা ফিরে এসেছে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও এর আগে তিনবার গণতান্ত্রিক উত্তরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এবার তরুণদের ত্যাগে চতুর্থবারের মতো এই ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
আলী রীয়াজ আরও বলেন, ‘প্রচলিত রাজনৈতিক দল বা শক্তিগুলো সাধারণত স্থিতাবস্থা রক্ষা করতে চায়। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেই গণতন্ত্রের অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা হয় না। স্বাধীন ও জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে হবে। বৈষম্য বন্ধ করতে হবে। জনগণের সম্পদ লুটপাটকারীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘তরুণরা যে নতুন দেশের স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমেছিল, তা বাস্তবায়নে নাগরিক হিসেবে সবাইকে শেষ পর্যন্ত সচেষ্ট ও সতর্ক থাকতে হবে।’
আলী রীয়াজ স্নাতকোত্তর গবেষণা পুরস্কার পেয়েছেন অর্থী নবনীতা ও ফারাহ জাহান শুচি।
গবেষণা বৃত্তি পেয়েছেন ফারাহ জাহান শুচি, উসামা রাফিদ, আজরা হুমায়রা, কৌরিত্র পোদ্দার তীর্থ, মোহাম্মদ আল মুকিত ও মুহাম্মদ মুযযাম্মিল হক।


