সাংবাদিকতায় কয়েক মাসেই প্রেসক্লাব সভাপতি বিএনপি নেতা

সাংবাদিকতায় কয়েক মাসেই প্রেসক্লাব সভাপতি বিএনপি নেতা
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দেওয়ানগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সাজু। সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একজন নেতার সাংবাদিকতায় আসা ও দ্রুত প্রেসক্লাবের শীর্ষ পদে বসা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

শনিবার বিকালে দেওয়ানগঞ্জ শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে প্রেসক্লাবের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাবেক সভাপতি খাদেমুল ইসলাম।

কমিটিতে সভাপতি হয়েছেন আতিকুর রহমান সাজু। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক সমকালের সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক মিকা।

স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আতিকুর রহমান সাজু দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। বর্তমানে তিনি দেওয়ানগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ও আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। চলতি বছরের মে মাসে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘সিএনএ টোয়েন্টিফোর নিউজ’-এর মাধ্যমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন তিনি।

নতুন কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হয়েছেন কালের কণ্ঠের তারেক মাহমুদ। সহসভাপতি হয়েছেন নাগরিক টিভির খাদেমুল ইসলাম অলিদ, ভোরের কাগজের বিল্লাল হোসেন মণ্ডল, বাংলাবাজার পত্রিকার আশরাফ হোসেন রাজা, চ্যানেল এসের ফারুক মিয়া, দৈনিক আমার সময়ের দেলোয়ার হোসেন ও দৈনিক বাংলার নজরুল ইসলাম।

আরও পড়ুন

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জামালপুর নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মহসিন রেজা রুমেল। সহসাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম পিকুল। সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফুলু।

সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা কীভাবে প্রেসক্লাবের সভাপতি হলেন, এ নিয়ে দেওয়ানগঞ্জের অধিকাংশ সাংবাদিক প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘উপজেলার বিভক্ত সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং ভুয়া সাংবাদিক ও কার্ডধারী চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য রুখতে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।’

ওই সদস্য আরও বলেন, ‘কমিটির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই। উদ্দেশ্য সফল হলে আতিকুর রহমান সাজু পদ ছেড়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন।’
নতুন সভাপতি আতিকুর রহমান সাজুর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। প্রথমে অভিনন্দনের জবাব দিয়ে কথা বলেন তিনি। সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন। পরে অন্য একজন সাংবাদিক ফোন করলেও পরিচয় জানার পর তিনি একই আচরণ করেন।

এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছেন জেলার সাংবাদিক নেতারা।

প্রেসক্লাব জামালপুরের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাংবাদিকদের মূল কাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা ও ক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। সেই ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত নেতারা সাংবাদিক সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। হুকুম পালন করতে করতেই সাংবাদিকতার ইতি টানতে হয়। রাজনৈতিক দলের নেতারা সাধারণত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ মেনে নিতে পারেন না। তাই একজন সক্রিয় রাজনীতিক প্রেসক্লাবের দায়িত্বে থাকলে ওই এলাকায় সুস্থ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায়।’

জামালপুর জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘এটি হওয়া উচিত না। এতে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে।’
দেওয়ানগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্যদের নাম এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরে তাদের নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad