লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের ‘ঘুষ’ গ্রহণ ও কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি লক্ষ্মীপুরের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সোমবার বিউবোর তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তর থেকে জারি করা এক দপ্তরাদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালার অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বিউবোর চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে নুরুল আমিন চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করতে পারবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এর আগে, রোববার রাত থেকে প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।
ভিডিওতে পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে, কোনো একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়ব না। ৬ কোটি টাকা তিনগুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়ব না, চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাব।’
ভিডিওতে নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘একটা বিলের জন্য যদি ২ কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গা মতো পোস্টিং দেবে। সোজা হিসাব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসাব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন আমি সব সই করে দেব।’
ভিডিওতে কয়েকজন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ টাকা গ্রহণ করতে দেখা গেছে। তবে ওইসব ব্যক্তিদের মুখ দেখা যায়নি। পরিচয়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওতে তিনি ওই ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখানে কত?(টাকা) ওই ব্যক্তি বলেন, এখানে ৩৫ স্যার। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, এক লাখ ৩৫। ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আগে দিয়েছি এক লাখ স্যার।’
লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ অফিসের দুইজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ঘুষ লেনদেনের ভিডিওটি বেশ পুরনো। এটি একটি সরকারি বাসভবনের ভেতরে ঘটেছে। সে সময় লক্ষ্মীপুর পিডিবি অফিসের একজন সহকারী প্রকৌশলী ও দুইজন উপসহকারী প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ টাইমসকে বলেন, ‘নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে পিডিবির চেয়ারম্যান বরাবর ব্যবসায়ীরা লিখিত অভিযোগ দিলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই কারণে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন।’
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ সংযোগ, মিটার স্থাপনসহ কোন কাজ নিয়ে গেলেই বিদ্যুৎ বিভাগে ঘুষ দিতে হয়।


