শতাধিক গুম ও হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মামলাটি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
প্রসিকিউশনের ১৫তম ও সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জবানবন্দি শেষ না হওয়ায় বাকি অংশের শুনানি রোববার ৪ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্কের মধ্য দিয়ে মামলাটি রায়ের দিকে এগিয়ে যাবে।
জবানবন্দিতে রফিকুল ইসলাম মামলার তদন্তের পদ্ধতি, যাদের জবানবন্দি নিয়েছেন, তদন্তে যেসব স্থানে গিয়েছেন এবং যেসব তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন, সেসবের বিবরণ দেন।
এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তৎকালীন সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াসহ সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের জবানবন্দিতে জিয়াউল আহসান কীভাবে একজন ‘সিরিয়াল কিলার’ হয়ে ওঠেন, তার বিস্তারিত বিবরণ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। র্যাব কর্মকর্তারা কীভাবে ধীরে ধীরে এ ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ন, সে বিষয়েও সাক্ষীরা বর্ণনা দেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আংশিক জবানবন্দি গ্রহণের পর বুধবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাংবাদিকদের বলেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগ ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যে আমরা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি। তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দির মধ্য দিয়ে প্রসিকিউশনের সাক্ষ্য উপস্থাপন শেষ হবে। এরপর আসামিপক্ষ চাইলে নিজেদের সাক্ষী উপস্থাপন করতে পারবে।
১০৪ জনকে হত্যার অভিযোগ
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল, এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। গত ১৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে ১০৪ জনকে হত্যার অভিযোগে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের দাবি, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময়ে তিনি বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন। তার নির্দেশ ও অনুমোদনে র্যাবের সদস্যরা এসব অপরাধ সংঘটিত করেন বলেও অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
র্যাবে পদায়ন থেকে মেজর জেনারেল
প্রসিকিউশন সূত্রের দাবি, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে র্যাবে পদায়নের পর জিয়াউল আহসান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। ২০২৪ সালে চাকরিচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফিরে যেতে হয়নি। এ সময় তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেন। প্রসিকিউশনের দাবি, প্রয়োজনীয় কোর্স ও প্রশিক্ষণ এবং কোনো ব্যাটালিয়ন বা ব্রিগেড কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই জিয়াউল আহসান মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পান। সেনাবাহিনীর পেশাদার ইতিহাসে এমন পদোন্নতি নজিরবিহীন।


