আশুলিয়ায় ট্রাস্ট পরিচালিত একটি ফাজিল (স্নাতক) মাদ্রাসায় সশস্ত্র হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর এবং লকার ভেঙে নগদ ২০ লাখ টাকাসহ বিপুল মালামাল লুটের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।
১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে আশুলিয়া থানায় মামলাটি করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
সোমবার মাদ্রাসার প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ সানজিদ (৪৫) বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
রোববার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকায় অবস্থিত ‘তাহফিজুল কোরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসায়’ এ হামলার ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামিরা হলেন পলাতক শ্রমিক লীগ নেতার ভাই ইমাম হাসান (৫০), গাজীরচট এলাকার প্রভাবশালী বিএনপি নেতা জাকির হোসেন ওরফে জাকির (৪৭), সুবন্দী এলাকার মামুন দেওয়ান ওরফে শুটার মামুন (৪০), কন্ডা এলাকার শুটার কালু (৩৫), রুবেল (৪৫), মারুফ হোসেন মুকুল (৫৫), ডাক্তার সালেউদ্দিন সাঈদ (৬০), ফজলুল কবির (৬০), মো. বাবু (৩৫), রফিক দেওয়ান (৫৫), হাবিবুর (৩৫), কানা মনির (৩৬), শামীম (৩৮) ও দিপু (৩৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার মালিকানাধীন মার্কেট নিয়ে আসামিদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জেরে রোববার বিকালে প্রধান আসামি ইমাম হাসানের নির্দেশে জাকির, শুটার মামুন ও শুটার কালুসহ অন্যান্য আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে মাদ্রাসা ও মার্কেট দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় মাদ্রাসার সিকিউরিটি ইনচার্জ আলতাব হোসেন বাধা দিলে আসামিরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা মাদ্রাসার আসবাবপত্র, দরজা-জানালা এবং প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে অন্তত ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে। একপর্যায়ে তারা অফিসের লকার ভেঙে নগদ ২০ লাখ টাকা, ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের দুটি ল্যাপটপ এবং ২ লাখ টাকা মূল্যের ১০টি কম্পিউটার মনিটর লুট করে নিয়ে যায়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের লোকজন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।


