দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় কারাগার থেকে আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। হাজিরা শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালতের হাজতখানা থেকে বের করা হয়। এ সময় দুই হাত উঁচিয়ে সাংবাদিকদের দেখিয়ে পলক বলেন, ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হচ্ছে হাত।’
সোমবার ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে তার হাজিরা সম্পন্ন হয়।
এদিন দুদকের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। এ কারণে কারাগার থেকে পলককে আদালতে হাজির করা হয়। তবে দুদক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় আগামী ২৩ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেন আদালত। পরে পুলিশ প্রহরায় পলককে ফের কারাগারে পাঠানো হয়।
পলকের আইনজীবী তরিকুল ইসলাম বলেন, পলক দীর্ঘদিন ধরে বিনাবিচারে কারাগারে রয়েছেন। আজকে দুদকের একটি মামলায় হাজিরা দিতে এসেছিলেন। তিনি আগে থেকেই অসুস্থ। তাকে কয়েকবার ডাক্তার দেখানো হয়েছে। আজকে তিনি প্রতীকী অর্থে বলেন ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত’।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
কারাগারে থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর পলকের বিরুদ্ধে দুদকের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, পলক অসৎ উদ্দেশ্যে ও ব্যক্তি স্বার্থে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার জন্য অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ আট কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন।
এ ছাড়া নিজের নামে ২৫টি ব্যাংক হিসাবে ৩২ কোটি চার লাখ ৯৫ হাজার টাকা জমা এবং ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা অস্বাভাবিকভাবে উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থ মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে তিনি তা রূপান্তর, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন।


