রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীন, ভারতসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর মধ্য দিয়েই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হতে পারে।
বৃহস্পতিবার বিকালে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু সাময়িক অর্থসহায়তা দিয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখনো স্থিতিশীল নয়। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বিভিন্ন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। ফলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কার সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতা করা হবে, সেটিও একটি জটিল প্রশ্ন।
চীন ও ভারতের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের পাশাপাশি এই দুই দেশেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিলে সংকট সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।
রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা এবং কর্মদক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের উৎপাদনমুখী কাজের প্রশিক্ষণ দিয়ে সীমিত পরিসরে জীবিকার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে শিবিরে অবস্থান করেও তারা কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবেন।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব ইতোমধ্যে দ্রব্যমূল্যে পড়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে পণ্যের দাম বাড়ার পাশাপাশি মানুষের যাতায়াত ব্যয়ও বেড়েছে।
তিনি বলেন, বাস ও লঞ্চের ভাড়া বেড়েছে। ট্রেন ও বিমানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের ব্যয় রয়েছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, এর প্রভাব দ্রব্যমূল্যে পড়বে না-এ ধরনের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এবং সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মেয়র প্রার্থী নূরুল ইসলাম বাবুল উপস্থিত ছিলেন।


