পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা ও পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১৬ জন পুলিশ সদস্য। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় কোহাটের একটি পুলিশ সদর দপ্তরের মসজিদের প্রবেশপথে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। পরে বন্দুকধারীরা পুলিশ কম্পাউন্ডে ঢোকার চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তাদের গোলাগুলি হয়।
পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি)-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে। তালেবান কমান্ডার হাফিজ গুল বাহাদুরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’ নামের সংগঠনটি আত্মঘাতী হামলাটি চালানোর দাবি করেছে।
প্রাদেশিক পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ আত্মঘাতী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধারকারী কর্মকর্তা বিলাল ফাইজির বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, আহতদের বেশির ভাগই ছিলেন মসজিদে থাকা মুসল্লি।
আল জাজিরার খবরে জানা যায়, কোহাটের একটি হাসপাতালে অন্তত ১৫টি মরদেহ ও ৫০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক তাহির শাহ। আহতের সংখ্যা অন্তত ৭৫।
বিস্ফোরণে মসজিদটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশের কার্যালয়ের বাইরের দেয়ালও ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বেশ দূর থেকেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
হামলার পরের বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছে।
আফগান সীমান্তের কাছাকাছি কোহাট উত্তর ওয়াজিরিস্তান, বান্নু ও ডেরা ইসমাইল খানের দিকে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পথে অবস্থিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব এলাকায় একাধিক প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে।
পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী আশ্রয় ও কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি সীমান্তপারের হামলাও হয়েছে।
কোহাটে হামলার এক দিন আগে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে সড়কের পাশে পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে ছয় সেনা নিহত হন। এর আগে বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ সন্দেহভাজন তালেবান সদস্যকে হত্যার কথা জানিয়েছিল।


