আলবার্টার ৭০ শতাংশ কানাডার সঙ্গেই থাকতে চান

আলবার্টার ৭০ শতাংশ কানাডার সঙ্গেই থাকতে চান
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

কানাডার তেলসমৃদ্ধ প্রদেশ আলবার্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে সামনে রেখে নতুন জরিপে দেখা গেছে, প্রদেশটির অধিকাংশ মানুষ এখনো কানাডার সঙ্গেই থাকতে চান।

সর্বশেষ ইপসস জরিপ অনুযায়ী, ৭০ শতাংশ আলবার্টান আলবার্টাকে কানাডার প্রদেশ হিসেবেই রাখতে চান, আর ২০ শতাংশ ভবিষ্যতে স্বাধীনতা নিয়ে একটি বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

আলবার্টা সরকারের আয়োজিত ১৯ অক্টোবরের গণভোটটি সরাসরি কানাডা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ভোট নয়। ব্যালটে ভোটারদের সামনে দুটি বিকল্প থাকবে—আলবার্টা কানাডার একটি প্রদেশ হিসেবেই থাকবে, অথবা আলবার্টা সরকার কানাডার সংবিধান অনুযায়ী ভবিষ্যতে একটি বাধ্যতামূলক বিচ্ছিন্নতা গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে। বর্তমান গণভোটের ফল নিজে কোনো বিচ্ছিন্নতা কার্যকর করবে না।

গ্লোবাল নিউজের জন্য (ইপসস)-এর সর্বশেষ জরিপটি ১৮ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে করা হয়। এতে মোট ১ হাজার ৫০০ কানাডিয়ানের মতামত নেওয়া হয়, যার মধ্যে ৬০০ জন ছিলেন আলবার্টার বাসিন্দা।

জরিপে ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে অবস্থান নেন। বিপরীতে ২০ শতাংশ ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্নতার বাধ্যতামূলক গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে মত দেন।

তবে জরিপে ভোটার উপস্থিতিকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ইপসস-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিচ্ছিন্নতার পক্ষে থাকা ভোটাররা ভোট দিতে বেশি আগ্রহী হলে ফলাফলে তাদের সমর্থনের হার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যেতে পারে।

অন্যদিকে, কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে থাকা ভোটারদের একটি অংশ ভোটকেন্দ্রে না গেলে দুই পক্ষের ব্যবধান কমে আসতে পারে।

আরও পড়ুন

এদিকে ‘অ্যাবাকাস ডাটা’ এর সাম্প্রতিক জরিপেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। ওই জরিপে ৬৪ শতাংশ আলবার্টান কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে, আর ২৪ শতাংশ ১৯ অক্টোবরের ভোটে ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্নতার বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করার পক্ষে মত দিয়েছেন।

জরিপে আরও দেখা যায়, যারা এই প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে ভোট দিতে চান, তাদের সবাই সরাসরি স্বাধীনতার পক্ষে নন।

প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি আলবার্টার বিচ্ছিন্নতা প্রশ্নকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

তিনি এর আগে এই উদ্যোগকে বিপজ্জনক হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছিলেন, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দরকষাকষিতে বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নকে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

অন্যদিকে, আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথ বারবার বলেছেন, ১৯ অক্টোবরের ভোট সরাসরি স্বাধীনতার প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার গণভোট নয়। তার সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোটাররা মূলত সিদ্ধান্ত দেবেন—ভবিষ্যতে আলবার্টার স্বাধীনতা নিয়ে একটি বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না।

সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে আরও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, আলবার্টায় কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি ও অটোয়ার সঙ্গে প্রদেশের সম্পর্ক নিয়ে অসন্তোষ থাকলেও তা সরাসরি স্বাধীনতার সমর্থনে রূপ নিচ্ছে না।

‘অ্যাবাকাস ডাটা’ এর জরিপে দেখা গেছে, বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে সমর্থনকারী অনেকের উদ্দেশ্য সরাসরি আলাদা রাষ্ট্র গঠন নয়; বরং অটোয়ার কাছ থেকে আরও ক্ষমতা বা রাজনৈতিক ছাড় আদায় এবং প্রাদেশিক স্বার্থের বিষয়ে শক্ত অবস্থান নেওয়ার বিষয়টিও তাদের অবস্থানের সঙ্গে যুক্ত।

আলবার্টার বিচ্ছিন্নতা প্রশ্নটি মূলত ২০২৫ সালের ফেডারেল নির্বাচনের পর নতুন করে রাজনৈতিক গুরুত্ব পায়। প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথের সরকার ফেডারেল সরকারের সঙ্গে জ্বালানি নীতি, পাইপলাইন, নির্গমন নীতি এবং প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য তুলে ধরে আসছে। এসব ইস্যুর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিও আলবার্টার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে।

এখন পর্যন্ত–ইপসস ও অ্যাবাকাস ডাটা–দুই জরিপেই কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন দেখা যাচ্ছে। তবে ১৯ অক্টোবরের ভোটে শেষ পর্যন্ত কত মানুষ ভোট দিতে যাবেন এবং বিভিন্ন প্রশ্নে ভোটারদের অবস্থান কী হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad