মক্কা চুক্তি: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনা প্রধানদের বৈঠক

মক্কা চুক্তি: সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সেনা প্রধানদের বৈঠক
বৈঠকে তিন দেশের সেনাপ্রধান। ছবি: তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
Advertisement
Advertisement

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বৈঠক করেছেন পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সেনা প্রধানরা। শুক্রবারের ওই বৈঠকে দেশগুলোর মধ্যে হওয়া যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (মক্কা চুক্তি) অনুযায়ী গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানো, সামরিক সমন্বয় জোরদার এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা একীভূত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান ও সেনাবাহিনীর প্রধানরা সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং দেশটির সামনে থাকা বিভিন্ন হুমকি পর্যালোচনা করেছেন।

এ সময় তারা সৌদি আরব ও লোহিত সাগর অঞ্চলে ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার নিন্দা জানান। এসব হামলার মধ্যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র নগরী মক্কাসহ সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো আক্রমণও রয়েছে।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নেওয়ার উপায় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বৈঠকে তিন দেশের সেনাপ্রধান। ছবি: তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়

 

এর আগে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির (মক্কা চুক্তি) আওতায় একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে যাচ্ছে তিন দেশ। লোহিত সাগরে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমাগত হামলার মুখে সৌদি আরবকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। এরইমধ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির কাঠামোর আওতায় বৈঠক করেছেন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

গত মাসে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়, তিন দেশের যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। চুক্তিতে সই করা দেশগুলো জানিয়েছিল, এর লক্ষ্য হলো যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা ও সামরিক সহযোগিতা শক্তিশালী করা। প্রায় এক বছর ধরে চলা আলোচনার পর এই চুক্তি সম্পন্ন হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের জেরে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যেও সংঘাত তীব্র হয়েছে।

ইরানের সমর্থনে এরইমধ্যে সম্মুখ যুদ্ধে জড়িয়েছে হুথি বিদ্রোহী, লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।

ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত সরকারের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে হুথিরা। এতে দেশটিতে ফের গৃহযুদ্ধ তীব্র হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সৌদি আরবেও বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করেছে। পাশাপাশি লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হামলা চালানোয় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশটির তেল সরবরাহ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad