ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে ফের বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমালোচনা বিষয়ক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বৃহস্পতিবার এই হুমকি দেন।
দীপকে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার আগামীকালের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ককরোচ জনতা পার্টি ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু করবে এবং তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেবে।’
বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে ওই পোস্টে দীপকে বলেন, ‘হ্যাঁ, নির্বাচনে কারচুপি করা হচ্ছে। কিন্তু আপনারা যখন এমন কারচুপিপূর্ণ নির্বাচনে অংশ নেওয়া চালিয়ে যাচ্ছেন, তখন আপনারাই এসব নির্বাচনকে বৈধতা দিচ্ছেন এবং এগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু—এই ভ্রান্ত ধারণা বজায় রাখতে সহায়তা করছেন।’
‘হয়তো আপনারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, কারণ ভয় পাচ্ছেন- এতে অংশ না নিলে আপনাদের অস্তিত্বই হয়তো টিকে থাকবে না। কিন্তু এমন কী ধরনের অস্তিত্ব আপনারা রক্ষা করতে চাইছেন, যখন ভোট চুরি হচ্ছে, আপনাদের বিধায়ক ও সংসদ সদস্যদের দলে টেনে নেওয়া হচ্ছে এবং আপনাদের দলগুলো ভেঙে দেওয়া হচ্ছে?’, প্রশ্ন রাখেন সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা।
তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক টিকে থাকা নয়। আপনারা কেবল এমন একটি ব্যবস্থায় টিকে থাকার চেষ্টা করছেন, যে ব্যবস্থা যখন ইচ্ছা আপনাদের দুর্বল করতে পারে, দল ভেঙে দিতে পারে অথবা আপনাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কেড়ে নিতে পারে। এভাবে আর কত দিন টিকে থাকা সম্ভব?’

এর আগে বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আল্টিমেটাম দিয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনে অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সরকারকে নির্বাচনে সুবিধা দিতে ভোটার তালিকা পরিবর্তনের অভিযোগ করেছেন দীপকে।
বিজেপির বিরোধী দলগুলোও ককরোচ জনতা পার্টির অভিযোগের সঙ্গে ঐকমত্য জানিয়েছে। তাদের দাবি, ভোটার তালিকায় এসব পরিবর্তন নরেন্দ্র মোদির দলকে সুবিধা দিতে পারে।
অন্যদিকে দেশটির নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মতো তাদের মধ্যেও কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের সব কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।
এর আগে ভারতের মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে জুলাইয়ে দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনির্দিষ্টকাল অনশন ও বিক্ষোভ শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। ধীরে ধীরে সেই বিক্ষোভ দেশজুড়ে তরুণ-ছাত্র জনতার মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সিজেপির দাবি মেনে পদত্যাগে বাধ্য হন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ।


