সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধ এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) পৃথক মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও ছাত্রশক্তি।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে জকসুর উদ্যোগে এবং ভাস্কর্য চত্বরে ছাত্রশক্তির উদ্যোগে এসব মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জকসু, ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা সরকারি চাকরিতে রাজনৈতিক পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। পাশাপাশি সাম্প্রতিক বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি করেন তারা।
ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, চাকরির বাজারে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা বৈষম্য মেনে নেওয়া হবে না। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত না হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।’ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধ করে সব সরকারি নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রধান মানদণ্ড করার দাবি জানান তিনি।
জবি শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিসহ বিভিন্ন ঘটনায় মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও শাখা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, এনটিআরসি নিয়োগে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়া, ভাইভায় অতিরিক্ত নম্বর এবং নতুন পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্ড চালুর মতো সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ ভেরিফিকেশনে রাজনৈতিক পরিচয় বা জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ বিবেচনা করা হচ্ছে কিনা, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তিনি।
জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ভাইভা ও ভেরিফিকেশনের নামে নিয়োগে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে থাকা প্রার্থীদের বাদ দেওয়া হচ্ছে কিনা, তা স্পষ্ট করতে হবে।


