সদ্য সাবেক উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ষষ্ঠ দিনের মতো আন্দোলন চলছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট)। রোববার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
এতে চুয়েট শিক্ষক সমিতির পাশাপাশি কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতির সদস্যরাও অংশ নেন।
কর্মসূচিতে সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ মাসরুর আহম্মদ বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ধারণ করা। এখানে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। একটি অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় আমরা মানসিকভাবে চাপে আছি। শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে যাচ্ছে। সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারছি না। সরকারের কাছে আকুল আবেদন, বর্তমান সরকারের মিশন ও ভিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলমান সমস্যার সমাধান করা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করা।’
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া চুয়েট কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রিয়তোষ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের দাবি একটাই–২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক সায়েম স্যারকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগসংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন বাতিল করতে হবে। সম্মানিত শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে আমরা একাত্মতা প্রকাশ করছি। যতক্ষণ পর্যন্ত সায়েম স্যারকে পুনর্বহাল করা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাব।’
এদিকে, একই দাবিতে লাল রঙে বড় করে লেখা ‘৫৬?’ লেখা কাগজ হাতে নিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) প্রতীকী প্রশ্নযাত্রা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। রোববার দুপুরে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় ‘আমাদের দাবি একটাই, সায়েম স্যারকে ভিসি চাই’ এবং ‘সায়েম স্যার, সায়েম স্যার’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা লাল কাগজের ‘৫৬?’ যেন তাদের একটাই প্রশ্নকে সামনে আনছিল–মাত্র ৫৬ দিনের দায়িত্বের পর কেন উপাচার্য আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পরিবর্তন করা হলো। সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ছয় দিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
প্রতীকী প্রশ্নযাত্রায় অংশ নেওয়া কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের ২৪ আবর্তের শিক্ষার্থী আয়েশা করিম সোহা বলেন, ‘মাত্র ৫৬ দিনের মধ্যে আমাদের ভিসিকে পরিবর্তন করা হয়েছে। আজ ছয় দিন ধরে আমরা কর্মসূচি পালন করছি। আমাদের প্রশ্ন, এটা আর কত দিন চলবে? আমাদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব মেনে নেওয়া হোক।’
আয়েশা করিম সোহা বলেন, ‘স্যার দায়িত্বে থাকা ৫৬ দিনে কী কী করেছেন, আমরা সেগুলো স্মরণ করছি। তার কাজ দেখে আমরা তার প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা চাই, তাকে আবার আমাদের ভিসি হিসেবে দেখতে।’

তবে, দ্রুত আন্দোলনের অবসান ঘটিয়ে শ্রেণিকক্ষে ফিরতে চান শিক্ষার্থীরা। ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২ আবর্তের শিক্ষার্থী সাদনান ওয়াসি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের একটাই দাবি—চাওয়া। আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হোক। আমরা খুব শিগগিরই ক্লাসে ফিরতে চাই। এরই মধ্যে আমাদের অনেক সেশনজট হয়ে গেছে। আমরা আর সেটি বাড়াতে চাই না। তাই সায়েম স্যারকে পুনরায় ভিসি করে আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হোক, যেন আমরা ক্লাসে ফিরতে পারি।’
এর আগে, চুয়েটে চলমান অস্থিরতার মধ্যে ক্যাম্পাসে উপস্থিত না হয়েই উপাচার্য হিসেবে যোগ দেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে চুয়েটের উপাচার্য পদে যোগদান করেন।
নবনিযুক্ত উপাচার্যের যোগদানের বিষয়টি সামনে আসার পর ওই দিন জরুরি সভা করে পূর্ণ কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় চুয়েট শিক্ষক সমিতি। পরবর্তী সময়ে শুক্র ও শনিবার পৃথক বিবৃতির মাধ্যমে কর্মবিরতিতে একাত্মতা প্রকাশ করে চুয়েটের কর্মকর্তা ও কর্মচারী সমিতি।
শনিবার নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের অনলাইনে যোগদান প্রত্যাখ্যান করে লাল কার্ড কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবিতে গত ছয় দিন ধরে চুয়েটে শাটডাউনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ‘৫৬?’ লেখা লাল কাগজ, আর ক্যাম্পাসজুড়ে উচ্চারিত ‘সায়েম স্যার’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে এদিনও তাদের দাবিটি স্পষ্ট করে তোলেন আন্দোলনকারীরা–অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করে দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রমে ফিরতে চান তারা।


