ইসরায়েলকে ৪০ হাজার ভারী বোমা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইসরায়েলকে ৪০ হাজার ভারী বোমা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
গাজায় ইসরায়েলি বোমা হামলা। ছবি: এপি/ইউএনবি
Advertisement
Advertisement

আসন্ন একটি অস্ত্রচুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে ৪০ হাজার ভারী বোমা সরবরাহ করার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। এই প্যাকেজের আওতায় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারকে শক্তিশালী দুই হাজার পাউন্ড বা এক টন ওজনের বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির বরাতে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার এ তথ্য জানায় নিউইয়র্ক টাইমস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জনসমর্থন কমতে থাকার মধ্যেই দেশটিতে অস্ত্রের এই নতুন চালান পাঠানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্যাকেজটি ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় গোলাবারুদ সরবরাহগুলোর একটি হতে পারে।

এরইমধ্যে গাজা ও লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরায়েল এ ধরনের বোমা ব্যবহার করায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ বিস্তৃত এলাকায় বিস্ফোরণে এসব বোমা বেসামরিক মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।

মানবাধিকার সংগঠন এবং কয়েকটি বিদেশি সরকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী বোমা ব্যবহারের জন্য ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেবল একজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, গাজায় ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কায় দুই বছর আগে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন একই ধরনের বোমার একটি চালান স্থগিত করেছিল।

ইসরায়েলের জন্য বরাদ্দ ২৮০ কোটি ডলারের প্রস্তাবিত এই অস্ত্র প্যাকেজটিতে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দুই হাজার পাউন্ড ওজনের এমকে-৮৪ এবং বিএলইউ-১১৭ বোমা থাকবে ২০ হাজার করে।

এ ছাড়া ইসরায়েলকে ২০ হাজার আই-২০০০ বাঙ্কার-ধ্বংসকারী ওয়ারহেড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ওয়ারহেড মাটি, পাথর বা কংক্রিটের মতো বাইরের স্তর ভেদ করার পর কিছুটা বিলম্বে বিস্ফোরিত হয়।

প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। বেশির ভাগ অস্ত্রের অর্থ আসবে বৈদেশিক সামরিক অর্থায়ন কর্মসূচি থেকে। এই ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ ইসরায়েলকে দেওয়া হয় এবং ইসরায়েল সেই অর্থ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র থেকেই অস্ত্র কেনে।

আরও পড়ুন

ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপের সবশেষ সংযোজন এই অস্ত্র বিক্রি।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে গাজায় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন লাখো মানুষ। গাজার অবকাঠামো পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তূপে।

যুদ্ধের প্রায় দুই বছর পর ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় সহিংসতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই অস্ত্র প্যাকেজের খবর প্রকাশ করে। সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের প্রাণঘাতী হামলার জবাবে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে দেশটি ক্রমেই আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে নতুন এই অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা সামনে এসেছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যমটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সম্পর্কে সাম্প্রতিক কিছু টানাপোড়েনের খবর প্রকাশ্যে এলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের ঘনিষ্ঠতায় তা বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে না বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে এই প্রস্তাবিত প্যাকেজটি।

গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশ যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। বছরের পর বছর ধরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্ক কখনো উষ্ণ, কখনো শীতল ছিল। ইরান সংঘাত নিয়ে নেতানিয়াহুর প্রতি কিছুটা হতাশাও প্রকাশ করেছিলেন ট্রাম্প। তবে গত জুলাইয়ে হোয়াইট হাউসে তাদের সবশেষ বৈঠক হয়।

২০২৪ সালে বাইডেন প্রশাসন দুই হাজার পাউন্ড ওজনের এসব বোমার একটি চালান আটকে দিয়েছিল। তবে ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসার পর সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেন।

গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের স্বাভাবিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে ইসরায়েলের কাছে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়। ওই প্যাকেজে দুই হাজার পাউন্ড ওজনের ৩৫ হাজার ৫০০টির বেশি বোমা ছিল।

এরপর গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে আরও কয়েকটি অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয়, যার মোট মূল্য ছিল ৬৬৭ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই হাজার পাউন্ড ওজনের এসব বোমার একাধিক ধরন রয়েছে। কিছু বোমা ভূগর্ভের গভীরে থাকা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি। অন্যগুলো ভূমির ওপরে বিস্ফোরিত হয়ে বিস্তৃত এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটাতে পারে।

গাজায় কী ধরনের বোমা ও গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বেশ কম তথ্য প্রকাশ করেছে। তবে হামলার ভিডিও এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিস্ফোরকের টুকরা বিশ্লেষণ করা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বোমাগুলোই গাজায় ব্যবহার করা হয়েছে।

এসব বোমা হামাসের ব্যবহৃত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে ব্যবহার করা হলেও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বহু মানুষও এতে নিহত হয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর