জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ কয়েকজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য হাবিব হাসানসহ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ পিছিয়ে গেছে।
বুধবার নির্ধারিত দিনে আদেশ না দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২, নতুন তারিখ ধার্য করে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হবে। এর আগে, গত ৯ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার জন্য ১৬ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করেছিল ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এম লিটন আহমেদ। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন ও এম হাসান ইমাম।
এ মামলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা আসামিরা হলেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।
মামলার বাকি ১৮ আসামি পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার ও সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান।
এ ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে যুবরাজ, মো. ফরিদ আহমেদ, ডিএম শামীম, মো. আনিছুর রহমান নাঈম, মো. আফছার উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর ওরফে সাথিল এবং তুরাগ থানার যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন ওরফে মিঠু।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে সহযোগিতার পাশাপাশি ছাত্র-জনতাকে পানি ও খাদ্য বিতরণ করছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরায় মুগ্ধসহ ১১ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন।
প্রকিউটর তামিম জানান, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই উত্তরার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আশপাশ এলাকায় চলা হত্যাকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই মামলায় পৃথক পৃথক দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগে বলা হয়, ছাত্র-জনতাকে পানি ও বিস্কুট বিতরণ করছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ। এসময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। ছাত্র-জনতার কয়েকজন তাকে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই দিন উত্তরা এলাকায় জাহিদুজ্জামান তানভীন, শেখ ফাহমিন জাফর, মো. শাকিল হোসেন, মো. সাব্বির হোসেন ও সজিব সরকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ছাড়া ওইদিন উত্তরায় এপিসির পেছনের চাকায় পিষ্ট করে উবারচালক মোখলেসুর রহমান দুর্জয়কে হত্যা করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই উত্তরা এলাকায় রিদোয়ান শরীফ, মো. ছাব্বির ইসলাম, মো. আসাদুল্লাহ ও নাঈমা সুলতানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।


