কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালানো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
এসআরবি জানায়, নিহত মো. জহির (২০) ও সোহেল রানা (৩৮) একই এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। জহিরকে হেমায়েতপুরে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার পর হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করতে ছয় টুকরা করে পাশের নদীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি-৪ মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির পদাতিক অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৪-এর একটি দল। জহির হত্যা মামলায় তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সোহেল রানা ও জহির একই এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। স্থানীয় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো. সুলতানের সঙ্গে জহিরের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। একপর্যায়ে সুলতান সোহেল রানা ও আরও কয়েকজনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে জহিরকে হেমায়েতপুরে নিয়ে আসেন। বাড়ি ফেরার সময় তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুম করতে ছয় টুকরা করে পাশের নদীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।’
তিনি জানান, এ ঘটনায় জহিরের বাবা বাদী হয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে সোহেল রানাকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ২০১৯ সালে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
হাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে কারারক্ষীদের আহত করে পালিয়ে যান সোহেল রানা। এরপর দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।’
গ্রেপ্তার সোহেল রানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।


