কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ‘পীর’ আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীরকে (৬৫) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় অবশেষে হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৫৫ ঘণ্টা পর সোমবার রাত ১২টার দিকে নিহতের ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন।
এ সময় নিহত শামীমের অপর দুই ভাইও থানায় উপস্থিত ছিলেন। তবে এখনো মব সন্ত্রাসের এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন জানান, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৮০-২০০ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। হত্যার ঘটনায় শামীমের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করা হচ্ছিল। তার পরিবার জানিয়েছিল- মামলা করলে নতুন ঝামেলা তৈরি হবে। সে কারণে তারা মামলা করতে আগ্রহী ছিলেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে গত শনিবার দুপুরে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে তা ভয়াবহ সহিংসতায় রূপ নেয়। এক পর্যায়ে দরবার চালানো ‘পীর’ শামীমের ওপর মব সন্ত্রাস করে তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়াও শামীমের তিন অনুসারীও আহত হন। দরবারে দফায় দফায় হামলা ভাঙচুর এবং আগুন দেওয়া হয়। মূল্যবান সম্পদ লুটেরও অভিযোগ ওঠে।
এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েন থাকলেও তাদের সামনেই শামীমের দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে উচ্ছ্বাস করতে থাকে উত্তেজিত জনতা।


