পাবলিক-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবধান কমাতে চায় ইউজিসি

পাবলিক-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবধান কমাতে চায় ইউজিসি
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিদ্যমান মানগত ও সক্ষমতার ব্যবধান কমিয়ে আনতে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)।

মঙ্গলবার বিকালে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে তিস্তা ইউনিভার্সিটির ২০২৬ সালের জুলাই–ডিসেম্বর সেমিস্টারের নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসির সদস্য আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এসব কথা বলেন।

ইউজিসি সদস্য বলেন, বর্তমানে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষণা সক্ষমতা, শিক্ষক উন্নয়ন, ল্যাব ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণ এবং কর্মসংস্থানমুখী পাঠ্যক্রমের ক্ষেত্রে পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে দৃশ্যমান পার্থক্য রয়েছে।

এ ব্যবধান কমিয়ে শিক্ষার্থীরা যেন প্রতিষ্ঠানভেদে নয়, বরং সমমানের উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায় এবং দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদ উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, সে লক্ষ্যেই ইউজিসি বিভিন্ন সংস্কার ও নীতিগত উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, যোগ করেন তিনি।

এ লক্ষ্যে ইউজিসি প্রণীত উচ্চশিক্ষা রূপান্তরের কৌশলগত কর্মপরিকল্পনার খসড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা, শিল্প–একাডেমিয়া সংযোগ জোরদার, যুগোপযোগী ও মানসম্মত পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

নবীনবরণ অনুষ্ঠান বিষয়ে আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার মধ্য দিয়েই একজন শিক্ষার্থীর নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। এই সময়টিই ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিত্ব গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তাই শুরু থেকেই সময়ের যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত অধ্যয়ন এবং আত্মউন্নয়নের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কেবল সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দক্ষ, মানবিক, উদ্ভাবনী ও দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরির কেন্দ্র। সে কারণে শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি গবেষণা, সহশিক্ষা কার্যক্রম, সামাজিক উদ্যোগ, স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ড এবং উদ্ভাবনী প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। এসব কার্যক্রমই একজন শিক্ষার্থীকে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করে।

ইউজিসির এ সদস্য বলেন, উত্তরাঞ্চলে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই তিস্তা ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা, গবেষণা এবং একাডেমিক কার্যক্রমের মান রক্ষায় কোনো ধরনের আপস করা হবে না।

আধুনিক অবকাঠামো, দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণ, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শওকত আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তিস্তা ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এম আবুল কাশেম।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান মো. আশরাফুল আলম আল-আমিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, উত্তরাঞ্চলে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ, স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার তিস্তা ইউনিভার্সিটির অনুমোদন দেয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad