পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে বিরোধী দল কোথায় ছিল? ১৭ বছর কোথায় ছিল? এসব প্রশ্নের বিষয়। আমরা জোট করেছি, যুগপৎ আন্দোলন করেছি। ৫ আগস্টের পর তারা বলে, বিরোধী দল একাই আন্দোলন করেছে। অভ্যুত্থানের ভিত্তি লাগে। সেই ভিত্তি ছিল বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বিভাজন নয় ঐক্য’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে আমরা বাংলাদেশি নামে একটি সংগঠন।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সব আওয়ামী লীগ পালিয়ে যায়নি। সবার মামলা একরকম নয়। বিরোধী দল সংসদে বলছে, ভালো আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নেবে। এটা নিয়ে বিভেদের শুরু। নির্বাচনের আগে শুনেছি তাদের অনেকে বহু টাকার মালিক হয়েছেন। কারও পিএস বা সহকারীর কাছে টাকা উদ্ধার হয়েছে। বিগত দিনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়াদের সঙ্গে কথা বলেছি।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের কথা বাদ দিলাম। ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচার এরশাদ থেকে শুরু করে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলনে তারা ছিল? তারা ভেবেছিল এবার ক্ষমতায় আসবে। বাস্তবে দিল্লি বহুদূর।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, আমরা ১৭ বছর লড়াই সংগ্রাম করেছি। মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশা আছে। তারা স্বাভাবিক জীবন চায়। সরকারের পাঁচ মাস হয়েছে। এখনো খুব বেশি সমাধান করা গেছে বলা যাবে না। প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন। তিনি কর্মসূচি নিয়েছেন। সকলে সহযোগিতা করলে দেশে অভাব থাকবে না। বিগত ১৭ বছরে চুরি ও লুটপাটের কারণে নানামুখী সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়। জমি কমছে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ছোট্ট দেশে ২০ কোটির ওপর মানুষ। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে অসংখ্য প্রকল্প নিয়েছিলেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনেকগুলো প্রকল্প নিয়েছি। এগুলোর জাগরণ তৈরি করতে চাই।
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর ডিবি পুলিশের মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, আমরা বিভেদ নয় ঐক্য চাই।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি তারা সংসদে বিরোধী দল হয়েছে। এটা দেশের জন্য লজ্জার। তাদের ১১ দলীয় জোটে ভাঙন শুরু হয়েছে। এটি এখন ৯ দলে পরিণত হয়েছে। তারা আবার বিএনপি সরকারের পতন ঘটাবে! নিজেদের পতন আগে ঠেকান। জনগণ প্রচারণা বুঝে গেছে। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কী করবে তা এমপিদের কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছে।
রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ তারেক রহমানের জাদুতে মুগ্ধ। তিনি যেভাবে চলাফেরা করছেন, ব্যয় সংকোচন করছেন তা গ্রহণযোগ্য হয়েছে। বিএনপি ঐক্যে বিশ্বাস করে কিন্তু জামায়াত করে না। ড. ইউনূসের প্রতি শ্রদ্ধা আছে তবে তার মাইনাস ফর্মুলা ছিল। তিনি বিএনপিকে মাইনাস করতে চেয়েছিলেন। জামায়াত এনসিপিকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করেছিল। সেজন্য তারা ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়নি। নির্বাচন আদায় করা হয়েছে।
আমরা বাংলাদেশি সংগঠনের সমন্বয়ক সৈয়দ এহসানুল হুদার সভাপতিত্বে ও নির্বাহী সদস্য তমিজ উদ্দিন টিটুর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম, প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান শামসুদ্দিন পারভেজ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দি ইকরাম, বিএনপি নেতা মোমিনুল আমিন, ইউনাইটেড লেবার পার্টির আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।


