দেশের অধিকাংশ চিনিকল লোকসানে থাকলেও ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি সুগার মিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা নিট মুনাফা করেছে। প্রতিষ্ঠার ৮৮ বছরের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর দিয়েছে। চিনি কারখানার ৬০ কোটি ১৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা লোকসান পুষিয়েও এ মুনাফা হয়েছে।
কেরুজ কমপ্লেক্সের ছয় বিভাগের মধ্যে পাঁচটি মুনাফা করেছে। সবচেয়ে বেশি ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা মুনাফা এসেছে ডিস্টিলারি বিভাগ থেকে। ৯টি খামারে ৫ লাখ ৪৭ হাজার, আকন্দবাড়িয়া পরীক্ষামূলক খামারে ৭ লাখ ৬২ হাজার, বায়োফার্টিলাইজার কারখানায় ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৪ হাজার এবং ডিস্টিলারি ফার্মাসিউটিক্যাল বিভাগে ৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা মুনাফা হয়েছে।
আগের অর্থবছরে কেরুর মোট মুনাফা ছিল ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৫ কোটি ৭৯ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। ওই অর্থবছরে চিনি কারখানার লোকসান ছিল ৬২ কোটি ১৮ লাখ ২২ হাজার টাকা।
পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে চিনি কারখানায় বারবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। তবে ডিস্টিলারি বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়নকাজ চলছে। এর মধ্যে ১০২ কোটি টাকা ব্যয়ে চিনিকল আধুনিকায়নের কাজ রয়েছে। কাজ শেষ হলে লোকসান আরও কমবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
২০২৫-২৬ মাড়াই মৌসুমে ৭৬ হাজার টন আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্য থাকলেও হয়েছে ৬৫ হাজার ২০০ টন। ৪ হাজার ২৫৬ টন চিনির লক্ষ্যের বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ টন।
চিনি কারখানার লোকসান কমাতে আখ চাষ বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কৃষকদের নিয়ে নিয়মিত সভা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে।
কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি কেরু অ্যান্ড কোম্পানি সুগার মিল। এই মূল্যবান প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে আখের উৎপাদন বাড়ানো জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘আখ চাষ বাড়লে আগামীতে চিনি কারখানার লোকসান আরও কমবে।’
সংশ্লিষ্টদের আশা, আধুনিকায়ন ও আখের উৎপাদন বাড়লে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি সুগার মিল ভবিষ্যতে পুরোপুরি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।


