মানিকগঞ্জে সরকারি উদ্যোগে স্থাপিত কোটি টাকার সোলার সেচ পাম্প এখন কৃষকদের কোনো কাজেই আসছে না। জেলার বেশিরভাগ পাম্পই অকেজো অথবা আধা সচল অবস্থায় পড়ে আছে। বর্তমানে কাঠফাটা রোদ আর ডিজেল সংকটে মাঠের ফসল রক্ষায় যখন পানির চরম প্রয়োজন, তখন সরকারি এই পাম্পগুলো সচল না থাকায় সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েকশ কৃষক।
রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে কোটি টাকার এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এখন কেবলই আবর্জনায় পরিণত হতে চলেছে।
জেলায় দুটি প্রকল্পের অধীনে মোট সাতটি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের মধ্যে বর্তমানে মাত্র একটি নিয়মিত সচল রয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে দুটি কোনোমতে আধা সচল থাকলেও বাকি চারটি একেবারেই বন্ধ।
২০১৬ ও ২০২১ সালে দুই দফায় বিপুল অর্থ ব্যয়ে এসব পাম্প বসানো হলেও অধিকাংশ এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা চুরির কারণে সেগুলো পরিত্যক্ত হয়ে আছে। ফলে সরকারি পাম্প থেকে সুফল না পেয়ে কৃষকেরা বাধ্য হয়ে অনেক বেশি ব্যয়ে ডিজেল ও বিদ্যুৎচালিত সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছেন।
ঘিওর উপজেলার চর ঘিওর এলাকায় ২০ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৭ টাকা ব্যয়ে স্থাপিত বিএডিসির একটি বড় সোলার প্যানেল সেচ পাম্প গত পাঁচ বছরেও চালু করা সম্ভব হয়নি। এর মাধ্যমে শতাধিক কৃষকের অন্তত ৭০ বিঘা জমিতে বিনা খরচে সেচ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষেতের আইলে প্লাস্টিকের পাইপ বসানো থাকলেও পাম্পটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
কৃষক আব্দুল মান্নান জানান, সোলার পাম্প কাজে না আসায় তিনি বাধ্য হয়ে নিজের খরচে বিদ্যুৎচালিত মেশিন দিয়ে সেচ দিচ্ছেন।
সিংগাইর উপজেলার রসুলপুর এলাকায় ২০১৬ সালে স্থাপিত পাম্পটির চিত্র আরও করুণ। কৃষক ইয়াকুব আলী জানান, শুরুতে কয়েক বছর সুবিধা পাওয়া গেলেও পরে সোলার প্যানেল চুরি হয়ে যাওয়ায় পাম্পটি এখন সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত। বিষয়টি বারবার জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
তবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেক কৃষক সোলার পাম্প ব্যবহার করে সফল হচ্ছেন। জয়মন্টপ এলাকার কৃষক ওহাব খান ব্যক্তিগতভাবে পাম্প বসিয়ে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে সাফল্যের সঙ্গে সেচ দিচ্ছেন।
জেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, বর্তমানে মানিকগঞ্জে কয়েক হাজার বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহার করা হয়। এসবের পেছনে ব্যয় হয় প্রচুর জ্বালানি ও অর্থ। মানিকগঞ্জ কৃষি উন্নয়ন কমিটির সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম বলেন, শুধুমাত্র রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই সরকারি এই পাম্পগুলো কৃষকের প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
অর্থ সাশ্রয় ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই পাম্পগুলো দ্রুত সচল করার ওপর জোর দেন কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ এম এম এ সালাম।
বিএডিসির সহকারী প্রকৌশলী তিতাস অবশ্য দাবি করেন, এক বছর পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা মেরামতের দায়িত্ব কৃষকদেরই নিতে হয়। তবে বর্তমানে বন্ধ থাকা পাম্পগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং সেগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ী এই সেচ ব্যবস্থার ত্রুটিগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ।


