চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মাণাধীন ২১টি স্লুইসগেটের প্রকল্প চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং স্লুইসগেট প্রকল্প হস্তান্তর বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রকল্পটি হস্তান্তরের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে। পাশাপাশি প্রকল্পটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার জন্য চসিকের প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের পর নগরের বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করে সমস্যার কারণ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নির্দেশনা রয়েছে যাতে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এবং ভবিষ্যতে অতিবৃষ্টির সময়ও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটির মেয়াদ আরও এক বছর রয়েছে। এই সময়ের মধ্যেই চসিককে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে হস্তান্তরের পর স্লুইসগেটগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়। তার আশা, সবগুলো স্লুইসগেট পুরোপুরি চালু হলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে কাতালগঞ্জ, বহদ্দারহাট, চকবাজার, হিজড়া খাল ও বামনশাহী খালের কিছু অংশসহ প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি থাকায় কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ হলে নগরবাসী প্রকল্পটির পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মেয়র বলেন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। নগরীতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হলেও এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য খাল ও ড্রেনে গিয়ে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা সমাধানে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বর্জ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং খাল-ড্রেনে বর্জ্য ফেলা বন্ধে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র ‘ওয়াটার লগিং ডিপার্টমেন্ট’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিভাগ রেগুলেটর, পাম্প, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ও খালের সার্বক্ষণিক তদারকি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার দায়িত্ব পালন করবে।
মেয়র আরও জানান, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে চসিক ইতোমধ্যে সাত হাজার খাদ্য সহায়তা প্যাকেট বিতরণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও দুর্যোগে নগরবাসীর পাশে থাকবে।
সভায় বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এ কে এম শাহাবুদ্দিন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম।


